খলিল-জয়শঙ্কর বৈঠক ৭ এপ্রিল দিল্লিতে

ইসলামাবাদও যেতে পারেন

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠক আগামী ৭ এপ্রিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সের মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে মরিশাস যাওয়ার পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। আর মরিশাস থেকে দেশে আসার পথে তিনি ইসলামাবাদও যেতে পারেন।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের একটি ভারসাম্য রক্ষা করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নবগঠিত বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাবেন। এরপর মরিশাসে বহুপাক্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় সফরে তিনি পাকিস্তান যাবেন। ভারত ও পাকিস্তান সফরে দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে তার প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন চাইবেন। মরিশাসে মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন। এতেও অন্যান্য ইস্যুর সাথে সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থিতার প্রতি সমর্থনের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। বর্তমানে নিজ প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউ ইয়র্ক রয়েছেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সদস্যভুক্ত সব দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার একটা সুযোগ থাকে। এর আগে জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং লন্ডনে কমনওয়েলথের মন্ত্রী পর্যায়ের সভায়ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে সাইডলাইন বৈঠকে অন্যান্য ইস্যুর পাশাপাশি সাধারণ পরিষদে নিজ প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য আলোচনার সুযোগ পেয়েছেন।

আগামী ২ জুন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ থেকে ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য এ পদে বাংলাদেশের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সাইপ্রাস।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পথরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণ, কানেক্টিভিটি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা।

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সঙ্কট মোকাবিলায় অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ চেয়ে সম্প্রতি ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে সরকার। এতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ভারত। এ ছাড়া দেশের দেয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যার মূল দুই আসামিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করেছে ভারত। বর্তমানে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ দিল্লিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্ত শেষে আসামিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করার জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলার অ্যাকসেস পেতে পারে। আর বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসের মধ্যে সীমান্তে একজন বাংলাদেশীও বিএসএফের হাতে নিহত না হওয়াকে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৪-এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর সংখ্যালঘু ইস্যুতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রচারণা চালানো হলে ভারতের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে এ সময় পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য উভয় পক্ষের তৎপরতা লক্ষ্যণীয় ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান ও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হয়েছে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওআইসির নির্বাহী কমিটির বৈঠকের সাইডলাইনে ইসহাক দারের সাথে খলিলুর রহমানের সাক্ষাৎ হয়। এ সময় ইসহাক দার গত বছর বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন মরহুম খালেদা জিয়ার সাথে তার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে বাংলাদেশ সফরের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। ঢাকার নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।