রাজনীতিমুক্ত বুটেক্সে ছাত্রদলের কমিটি, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
Printed Edition
শেফাক মাহমুদ বুটেক্স
রাজনীতি নিষিদ্ধ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো: রাকিবুল হাসান রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট বুটেক্স ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন কাজল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিয়া মোহাম্মদ রুবেল মনোনীত হয়। একই সাথে এই কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয়া হয়।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সবধরনের রাজনৈতিক সংগঠন, ছায়া সংগঠন এবং এর কার্যক্রমের সাথে সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এমতাবস্থায় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নানা সমালোচনা করেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি প্রবেশের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রোববার বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা গতকাল বেলা ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে এসেছ- রাজনীতি ও নতুন কমিটির বিষয়, সেগুলো সম্পর্কে প্রশাসন অবগত আছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, তাই হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব নয়। তোমাদের দাবিগুলো আমরা দেখছি এবং বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। সার্টিফিকেট বাতিলের মতো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও দাফতরিক অভিযোগ প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী যা করা সম্ভব, আমরা সেটিই খতিয়ে দেখব।’
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে মূল বিষয় হচ্ছে আসলে কোনো রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিটি হচ্ছে কি না। বাইরে কোনো সংগঠন কমিটি দিতেই পারে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের এখতিয়ারে পড়ে না, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম না চলে, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। যারা ইতোমধ্যে গ্র্যাজুয়েট তারা যদি এসব পদে থাকে, তাদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনায় আসবে।