২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। গতকাল রোববার সকালে বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের পর বিকেলে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের বিচারাঙ্গনের শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হলো।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
শপথ গ্রহণ শেষে বেলা সাড়ে ৩টায় এক বিশেষ প্রটোকলে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরিদর্শন শেষে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তিনি স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন।
এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন- আপিল বিভাগের বিচারপতি মো: রেজাউল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক। তাদের অভ্যর্থনা জানান ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার।
কর্মজীবন ও পটভূমি : ১৯৬১ সালের ১৮ মে জন্মগ্রহণ করা জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বাবা মরহুম এ এফ এম আবদুর রহমান চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছিলেন। বিচারপতি জুবায়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম এবং পরে যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইনে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ২০০৩ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দীর্ঘ সময় হাইকোর্ট বিভাগে দায়িত্ব পালনের পর চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গত আগস্টে তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
কার্যকাল বয়সের নিয়ম অনুযায়ী, নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি ২০২৮ সালের ১৮ মে পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিচারাঙ্গনের অভিভাবক হিসেবে তার নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।