মগবাজারে ককটেল নিক্ষেপে আ’লীগ জড়িত থাকতে পারে
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে ককটেল ছোড়ার ঘটনাটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক আতঙ্ক সৃষ্টি ও সন্ত্রাসেরই অংশ বলে জনিয়েছে পুলিশ। ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় সিয়াম মজুমদার (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, এর আগেও এই এলাকায় ফ্লাইওভার থেকে দুর্বৃত্তরা দু’টি ঘটনা ঘটিয়েছে।
ডিসি তালেবুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে এটি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক ককটেল সন্ত্রাসের অংশ- যার মূল উদ্দেশ্য রাজধানীতে জনমনে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ঘটনার সাথে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ডিসি বলেন, বুধবার রাত ৭টা ১০ মিনিটে মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া বিস্ফোরক দ্রব্যের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত সিয়াম মজুমদার স্থানীয় একটি মোটরকার ডেকোরেশনের দোকানে কর্মরত ছিলেন।
সিয়ামের বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার কলোনিতে। তার বাবা আলী আকবর সিএনজি অটোরিকশা চালক। পরিবার নিয়ে নিউ ইস্কাটনে থাকেন তিনি। দুই ভাইয়ের মধ্যে সিয়াম ছোট। মা বাসাবাড়িতে কাজ করেন।
নিহত সিয়ামের সহকর্মী অহিদুল হাওলাদার জানান, নিউ ইস্কাটনে ‘জাহিদ কার ডেকোরেশনে’ সিয়াম গত তিন-চার বছর ধরে কাজ করছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দোকানে কাজ সেরে চা পান করার জন্য বের হয়েছিল সিয়াম। চা পান করেই চলে আসবে। এর আধাঘণ্টা পর দোকানে এসে কয়েকজন খবর দেয়, তাদের দোকানের কর্মচারী সিয়াম মারা গেছে। রাস্তায় তার লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে সিয়ামের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান দোকানের লোকেরা।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ফ্লাইওভার থেকে নিক্ষেপ করা ককটেলটি যুবকের মাথায় বিস্ফোরিত হয়। ককটেলটি কোন ধরনের সেটি নিয়ে তদন্ত করছে গোয়েন্দা ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিট। তবে এটি কাউকে টার্গেট করে নিক্ষেপ করা হয়নি। ফ্লাইওভার থেকে কে বা কারা এটিকে নিক্ষেপ করেছে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ককটেল নিক্ষেপকারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
ফুটপাথের যে চায়ের দোকানে বিস্ফোরণ হয়েছে সেই দোকানি মো: ফারুক ঘটনার বর্ণনায় বলেন, ছেলেটা আমার কাছে এসে চা চেয়েছিল। আমি চা বানাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ। দেখি, ছেলেটা মাটিতে পড়ে আছে। মাথা থেকে রক্ত পড়ছিল। মাথার বিভিন্ন অংশ রাস্তার ছিটে যায়।
হাতিরঝিল থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো: স্বপন মিয়া বলেন, নিক্ষেপ করা ককটেলটি নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সিয়ামের মাথায় আঘাত করলে মাথার পেছনের বেশির ভাগ অংশ ঘিলু বেরিয়ে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এই ঘটনায় নিহত সিয়ামের বাবা আলী আকবর মজুমদার হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন। এখন পর্যন্ত আসামিদের শনাক্ত করা যায়নি। আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারব।