কিউএস র‌্যাংকিংয়ে কৃষি ও বনায়নে ৪০১-৪৭৫তম স্থানে গাকৃবি

Printed Edition

মো: আজিজুল হক গাজীপুর মহানগর

আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করল গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)। বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে কঠিন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে এক অনন্য স্বীকৃতি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা র‌্যাংকিং সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি সাবজেক্ট র‌্যাংকিং ২০২৬-এ ‘কৃষি ও বনায়ন’ (অমৎরপঁষঃঁৎব ধহফ ঋড়ৎবংঃৎু) ক্যাটাগরিতে প্রথমবারের মতো ৪০১-৪৭৫তম অবস্থান। এই অর্জন শুধু গাকৃবির জন্য নয়, দেশের কৃষি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত ২৫ মার্চ কিউএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে স্থান করে নেয়া গাকৃবির এই অগ্রযাত্রাকে সংশ্লিষ্টরা দেখছেন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি সাবজেক্ট র‌্যাংকিং ২০২৬-এ ‘কৃষি ও বনায়ন’ (অমৎরপঁষঃঁৎব ধহফ ঋড়ৎবংঃৎু) ক্যাটাগরিতে বৈশ্বিক অগ্রগতির স্বীকৃতি অর্জন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে প্রথমবারের মতো গাকৃবি অবস্থান করেছে ৪০১-৪৭৫তম স্থানে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কিউএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২৫ মার্চ এ র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় কৃষি ও বনায়ন ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিংগেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ এবং দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া।

কিউএসের তথ্য অনুযায়ী, এ র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে ১,৯০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠান এবং ২১ হাজারেরও বেশি অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামকে ৫৫টি বিষয় ও পাঁচটি বৃহৎ ফ্যাকাল্টি ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গাকৃবির এ অগ্রগতি এক বছরে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সাফল্যেরই প্রতিফলন। এর আগে কিউএস সাসটেইনেবিলিটি র‌্যাংকিং ২০২৬-এ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। একই সাথে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় এবং পাবলিক-প্রাইভেট মিলিয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করে।

এ ছাড়া টাইমস হায়ার এডুকেশন (ঞঐঊ) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৬-এ গাকৃবি দেশের সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। একই র‌্যাংকিংয়ের সাবজেক্ট তালিকায় লাইফ সায়েন্স ক্যাটাগরিতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। ঞঐঊ ইমপ্যাক্ট র‌্যাংকিং ২০২৫-এ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (ঝউএং) বাস্তবায়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গাকৃবি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

অন্য দিকে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংস ফর ইনোভেশন (ডটজও) ২০২৫-এ ‘গ্লোবাল টপ ইনোভেটিভ ইউনিভার্সিটিজ’ ক্যাটাগরিতে গাকৃবি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। একই র‌্যাংকিংয়ে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গাকৃবির অবস্থান ৭৭তম এবং শীর্ষ ৪০০ উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৩১তম, যা জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গাকৃবির এই ধারাবাহিক অগ্রগতির পেছনে বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্ব, গবেষণার বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাকাডেমিক পরিবেশ গঠনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিক্রিয়ায় ভিসি প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,

‘এটি শুধু একটি র‌্যাংকিং উন্নয়ন নয়, বরং দেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। আমরা এই অর্জনকে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে দেখি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা পরিবেশ সৃষ্টি, আধুনিক পাঠক্রম উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গাকৃবিকে একটি বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য।’