হজরত মুসা ও খিজির আ:-এর ঘটনা : মাছ নিদর্শন

Printed Edition
islami logo
হজরত মুসা ও খিজির আ:-এর ঘটনা : মাছ নিদর্শন

আরিফ মাহমুদ

কুরআনের সূরা কাহফে বর্ণিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও মাছকে কেন্দ্র করে। একদিন হজরত মুসা আ:-কে তাঁর কওমের লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ কে? তিনি বললেন, ‘আমি’। যদিও তাঁর উত্তর ভুল ছিল না, কারণ তিনি ছিলেন একজন নবী; তবে তিনি এ কথা বলেছিলেন আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ ইঙ্গিত না করে। আল্লাহ তাকে শিখাতে চাইলেন, ‘মানুষ যত জ্ঞানীই হোক, আল্লাহর কাছে তার জ্ঞানের সীমা খুবই ক্ষুদ্র’। তাই আল্লাহ তাঁকে জানালেন যে পৃথিবীতে একজন বিশেষ বান্দা আছেন খিজির আ:। যাঁর কাছে কিছু আলাদা জ্ঞান আছে।

তাকে খুঁজে পেতে আল্লাহ একটি নিদর্শন নির্ধারণ করলেন- মুসা আ: একটি মাছ সাথে নেবেন এবং যেখানে সেই মাছ হারিয়ে যাবে- সেখানেই খিজির আ:-কে পাওয়া যাবে। এটি ছিল অত্যন্ত রহস্যময় এবং আল্লাহর এক অলৌকিক শিক্ষা। মুসা আ: তাঁর তরুণ সহকারী জুবায়ের রহমানকে নিয়ে যাত্রা করলেন। তারা সমুদ্রতীরে একটি পাথরের কাছে বিশ্রাম নিলেন। বিশ্রামের সময় অলৌকিকভাবে মৃত শুকনো মাছটি জীবিত হয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার পথ সাগরে এক দীর্ঘ সুড়ঙ্গের মতো তৈরি হয়ে গেল।

সহকারী এই ঘটনা দেখেও ভুলে গেল। শয়তান তাকে ভুলিয়ে দিলো। পরে যখন মুসা আ: ক্ষুধা অনুভব করলেন এবং খাবার চাইলেন। তখন সহকারী মনে করতে পারলেন যে, মাছটি সেখানেই হারিয়ে গিয়েছিল। তারা ফিরে গিয়ে ঠিক সেই স্থানেই খিজির আ:-কে পেলেন। এভাবে একটি মাছ হয়ে উঠল জ্ঞান-অন্বেষণের চাবিকাঠি, ঈমানের পরীক্ষার মাধ্যম এবং আল্লাহর জ্ঞানের অসীমতার এক বিস্ময়কর নিদর্শন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ফিজিওথেরাপি ডিপার্টমেন্ট, সিআরপি, সাভার, ঢাকা