তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্য বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না : অর্থ উপদেষ্টা
Printed Edition
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড যে মন্তব্য করেছেন তাতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুপক্ষীয় বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আরো বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন ভালো আছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
গত সোমবার ভারতের এনডিটিভি ওয়ার্ল্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাবিষয়ক প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।’ তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, ভারতের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী বাংলাদেশ এবং এই উপমহাদেশে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সহিংসতা। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলারও অনেক রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এসব স্থানের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কি উদ্বিগ্ন? শুধু রাজনৈতিক নয়, সব ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার প্রয়োজন কি না? জবাবে তুলসি বলেন, ‘অবশ্যই। দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নিষ্পেষণ, হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন অব্যাহত আছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কেন্দ্রে আছে এ বিষয়টি।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দাপ্রধানদের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাবিষয়ক প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড।
এদিকে, অর্থ উপদেষ্টার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, চট্টগ্রামে পণ্য খালাসের জট কমেছে কি না জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, হ্যাঁ, জট কমেছে।
সয়াবিন তেল কি ভাসছে? সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সয়াবিনটা ভাসছে, এটা আমাদের দৃষ্টিতে আসছে। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় নানান রকম ইসে যায়। যাই হোক, আমরা চেষ্টা করছি। তারা যতবেশি চালাক হয়, আমাদের আরো একটু বেশি চালাক হয়ে কাজ করতে হবে।
কারো কোনো গাফিলতি আছে কি না, সে বিষয়টি কি আপনারা দেখবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, কিভাবে করেছে, তারা কিন্তু এটা ভালোভাবে ম্যানেজ করেছে।
গার্ডিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক বাংলাদেশ সফর করে গিয়ে লিখেছেন বাংলাদেশ খাদের কিনারায় আছে, উনি কেন এটা বললেন বলে আপনাদের মনে হয়? জবাবে এই উপদেষ্টা বলেন, খাদের কিনারায় ছিল। এখন খাদের কিনারা থেকে আমরা রিটার্ন করে চলে আসছি।
উনি তো লিখেছেন, সাংবাদিকরা এমন পাল্টা প্রশ্ন করলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ওনারা কত কিছু লেখেন। বাইরের সবাই কি সবকিছু জেনে-শুনে লেখেন? তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে অনেক কিছু লেখেন।
অর্থনীতির বিষয়গুলোও সেখানে আছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতির বিষয় তো আমি জানি ভেতরে কী হচ্ছে। এত হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে একটা স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি নিয়েছি। স্মুথ মানে ধম করে নামে না, প্লেন যেমন আস্তে আস্তে নামে। আমরা এটা অলরেডি করছি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আসলে বাংলাদেশের দিকে অন্যান্য দেশ তাকিয়ে আছে। আমরা জানি বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ওভারঅল সন্তোষজনক। ভুল-ত্রুটি আছে তার মধ্যেও। ইভেন বলেছে তোমরা যদি করো অন্যান্য দেশ সাহস পাবে। আর আমাদের গৌরবটা একটু বাড়বে। হয়তো কিছু কিছু প্রিপারেশন লাগবে, আমরা প্রিপারেশনে যাচ্ছি।
আবারো মসুর ডাল ভোজ্যতেল ও এলএনজি কেনা হচ্ছে
স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এক কোটি ১০ লাখ লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল এবং ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ২৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য কেনা হচ্ছে এসব পণ্য।
ক্রয় সংক্রান্ত বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ, মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড এবং মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস লিমিটেড থেকে এই তেল কেনা হবে। প্রতি লিটার রাইস ব্রান তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৬২ টাকা ৫০ পয়সা। সে হিসেবে এক কোটি ১০ লাখ লিটার তেল কিনতে খরচ হবে ১৭৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে ২০ লাখ লিটার, মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের কাছ থেকে ৪৫ লাখ লিটার এবং মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস লিমিটেডের কাছ থেকে ৪৫ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কেনা হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রতি কেজি ডালের দাম ধরা হয়েছে ৯৪ টাকা ২৩ পয়সা।
মেসার্স মদিনা ট্রেডিং করপোরেশন ও মেসার্স পায়েল ট্রেডার্স থেকে এই ডাল কেনা হবে। এর মধ্যে মদিনা ট্রেডিং থেকে কেনা হবে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন এবং পায়েল ট্রেডার্স থেকে কেনা হবে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল।
এদিকে, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই দুই কার্গো এলএনজি আনতে ব্যয় হবে এক হাজার ৩৭৬ কোটি ৪৭ লাখ তিন হাজার ৬৮০ টাকা।
সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।