প্রথম স্বামীর গাড়িচালকের সাথে পরকীয়া ও বিয়ে তাকেও করলেন খুন
Printed Edition
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়ায় স্বামীকে গলা ও দুই হাতের রগ কেটে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নিকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি চাপাতি ও একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে দেলপাড়ার চানাচুর ফ্যাক্টরি গলির নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪১) ঢাকার কদমতলী থানার ঢালকানগর বৈশাখী হাউজিং এলাকার আব্দুস শাকুরের ছেলে।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানান, গ্রেফতার ফারজানা আক্তার মুন্নির দ্বিতীয় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জনি একসময় প্রথম স্বামীর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ছিলেন। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রায় পাঁচ বছর আগে মুন্নি প্রথম স্বামীর সংসার ছেড়ে জনিকে বিয়ে করেন এবং দেলপাড়ার চানাচুর ফ্যাক্টরি গলিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তাদের এক সন্তান রয়েছে।
পুলিশের দাবি, জনি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বারে চাকরি করতেন। এ কারণে অন্য নারীর সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে, এমন সন্দেহ থেকে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয় এবং এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।
ওসি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রোববার রাতে খাবারের সাথে পাঁচটি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ানো হয়। পরে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চাপাতি দিয়ে গলা এবং দুই হাতের রগ কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার এবং অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতি ও ছুরি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।