আরেক ইতিহাস কানাডার
Printed Edition
নানান রেকর্ডের এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপ। সেই রেকর্ডের আরেক সাক্ষী হলো কানাডা। এটা অবশ্য নিজস্ব রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই আসরের আগে যাদের কোনো জয়ই ছিল না সেই কানাডা পেল দ্বিতীয় জয়। আর এতেই তাদের জায়গা হলো দ্বিতীয় রাউন্ড বা শেষ ১৬তে। নক আউটের প্রথম ধাপ তথা সেরা ৩২ এর লড়াইয়ে তারা গতকাল ইনজুরি টাইমের গোলে ১-০তে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ফলে শেষ ১৬-এর ম্যাচে তারা পাবে মরক্কো ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার জয়ী দলকে। ৫ জুলাই হিউস্টনে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডের এই খেলা। কানাডা আগে কখনোই নেদারল্যান্ডসের সাথে ম্যাচ খেলেনি। মরক্কোর কাছে ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ১-২ গোলে হেরেছিল।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথম অভিষেক কানাডার। সেই আসরে সব খেলাতেই হার। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত সেই আসরে তারা ফ্রান্সের কাছে ০-১ গোলে, হাঙ্গেরির কাছে ০-২ গোলে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে ০-২ গোলে হেরে বিদায় নেয়। লম্বা সময় পর ২০২২ সালে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে উত্তর আমেরিকার দলটি। সেখানেও জয়ের দেখা মেলেনি। মরক্কোর কাছে ১-২ গোলে হার ছাড়াও বেলজিয়ামের কাছে ০-১ গোলে এবং ক্রোয়েশিয়ার কাছে ১-৪ গোলে হার।
এবার আর তাদের বাছাই পর্বের বৈতরণী পার হতে হয়নি। মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ আয়োজক হিসেবে সরাসরি খেলার সুযোগ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা প্রথমে পায় পয়েন্টের দেখা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে প্রথম পয়েন্টের স্বাদ। ১৩ জুনের এই অর্জনের পর ১৯ জুন আরেক ইতিহাস। এবার তারা পায় বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম জয়। ৬-০তে বিধ্বস্ত করে কাতারকে, যা তাদের রাস্তা প্রস্তুত করে নক আউটে যাওয়ার। পরের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ১-২ গোলে হারলেও সমস্যায় পড়তে হয়নি। কারণ তারা গোল পার্থক্যে ভালো অবস্থানে ছিল। তাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাথে পয়েন্ট সমান চার হলেও বেশি গোলের সুবাদে হয়েছে রানার্সআপ। এতে তাদের আরেক ইতিহাস। প্রথমবারের মতো নকআউটে যাওয়া। এবার সেই ইতিহাসকে আরো পোক্ত করল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেরা ১৬তে উঠে।
গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষে খেলা যখন ৯০ মিনিট পার করে ইনজুরি টাইমে গড়িয়েছিল তখন অনেকেরই ধারণা ছিল হয়তো নকআউটের প্রথম এই ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। সবার সেই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করলেন স্টিফেন ইউস্টাকুইয়ো। ৯২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেয়া ডান পায়ের প্রচণ্ড ভলি পোস্টের কোনা দিয়ে জালে। তখনই উল্লাসে মেতে উঠে লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলেউডের সোফি স্টেডিয়ামের ৬৯২৩৭ দর্শকের অধিকাংশই। ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল হতে পারেনি কানাডা। তাদের টপকে সেরা হয়েছে সুইজারল্যান্ড।
অবশ্য হোমে খেলার সুযোগ হারিয়ে কানাডা প্রমাণ করেছে তারা শুধু নিজ মাঠেই নয় অন্য দেশের মাটিতেও জিততে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকান গোলরক্ষক রয়েন উইলিয়ামসের প্রতিরোধে গোল পেতে বিলম্ব হচ্ছিল কানাডার।