এবার কোচ হিসেবে পদক চান মালেকা
এশিয়ান বিচ গেমস
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
বাংলাদেশের নারী কাবাডিতে এক উজ্জ্বল শাহনাজ পারভীন মালেকা। এশিয়ান গেমস, এস এ গেমস, এশিয়ান বিচ গেমস এবং সাউথ এশিয়ান বিচ গেমস। প্রতি আসরেই তার উজ্জ্বল পদচারণা। প্রতি গেমসেই তার পদক জয়ের কৃতিত্ব। এরপর কোচ হিসেবে দেশকে পদক দিয়েছেন বিশ্বকাপ, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ইয়ুথ এশিয়ান গেমসে। এখন তিনি এ মাসে চীনের সানিয়া শহরে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান বিচ গেমস নারী কাবাডি দলের কোচ। বিচ এশিয়ান গেমসে খেলোয়াড় হিসেবে দুই পদক জেতা আছে তার। এখন তিনি কোচ হিসেবে বাংলাদেশকে পদক জিততে চান। ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ দলের চীনের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার কথা।
এবারের গেমসে বাংলাদেশ খেলবে কাবাডির পুরুষ ও নারী বিভাগে। পুরুষ বিভাগে আগে কখনই পদক জিততে পারেনি বাংলাদেশ। আর নারী কাবাডি দল ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডের পকেটে পদক হারিয়েছে। এখন তাদের সে পদক পুনরুদ্ধারের পালা। কোচ মালেকা জানান, আমি খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার বিচ এশিয়ান গেমসে পদক জিতেছি। এখন আমি কোচ হিসেবে দেশকে এ পদক দিতে চাই।
২০১০ সালে ওমানের মাসকাটে বাংলাদেশ নারী বিচ কাবাডিতে ব্রোঞ্জ জয় করে। এরপর ২০১২ সালে চীনের হাইওয়াংয়ে সে পদক ধরে রাখা। এরপর আর বিচ এশিয়ান গেমসে পদকের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। বতর্মান বাংলাদেশ দল সর্বশেষ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া দল। সে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই আছে চীনে যাওয়া দলে। এটা দারুণ আশা জাগাচ্ছে কোচ মালেকাকে। বর্তমানে বাংলাদেশ দল কখনও পল্টন ময়দান কখনও ৩০০ ফিট রাস্তার পাশে অনুশীলন করছে। যদিও নারী দাবি ছিল তাদের যেন কক্সবাজারের বিচে অনুশীলন করানো হয়। কারণ খেলা হবে চীনের সাগরপাড়ে। হালকা ভোজা বালি আর বাতাদের মধ্যে। তবে কাবাডি ফেডারেশন তাদের অবস্থানে অনঢ় থেকে কক্সবাজারে অনুশীলনের ব্যবস্থা করেনি। মালেকা জানান, আমরা ঢাকায় যে বালিতে অনুশীলন করছি এখানে পা বালিতে দেবে যায় না; কিন্তু সাগরপাড়ের বালিতে পা দেবে যায়। এতে রেইড দিয়ে এসে খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই আমাদের কক্সবাজারের সাগর পাড়ে অনুশীলনটা জরুরি ছিল।
বাংলাদেশ দলের শ্রাবণী মল্লিক, স্মৃতি আক্তাররা দলের মূল ভরসা। শ্রাবণী ভালো রেইডার। ছোটখাটো গড়নের স্মৃতি আক্তার ভালো ক্যাচার। সর্বশেষ নারী বিশ্বকাপে সেরা ক্যাচার হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া বৃষ্টি, রাত্রিরা বাংলাদেশ দলের অন্যতম শক্তি। গত বছরটা বাংলাদেশের নারী কাবাডি দলের সোনালি একটি বছর গিয়েছিল। একে একে তিনটি পদক অর্জন। ইরানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জয়। এরপর বাইরাইনে ইয়ুথ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জিতে এসে ঢাকায় বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া।
এবারের বিচ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড, চাইরিজ তাইপে ও নেপাল। গ্রুপে দ্বিতীয় হলেই সেমিফাইনালে।
মালেকা এর আগে চারটি এশিয়ান গেমস চারটি সাউথ এশিয়ান গেমস ও চারটি বিচ এশিয়ান গেমস খেলেছেন। ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় সাফ বিচ গেমসে ব্রোঞ্জ জয় করেছেন কাবাডিতে। ২০১০ ও ২০১৪ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জয় করেন। আর বিচ গেমসে পদক জয় ২০১০ ও ২০১২তে। এস এ গেমসে ২০০৬ সালের কলম্বো এবং ২০১৯ সালে নেপালে ব্রোঞ্জ জয় করেন। ২০১০ ও ২০১৬ সালের ঢাকা ও শিলং গৌহাটি এস এ গেমসে রৌপ্য জয়ী বাংলাদেশের গর্বিত সদস্য তিনি। ২০০৫ সালে বাংলাদেশে প্রবর্তিত প্রথম কাবাডি দলের সদস্য তিনি। সে বছরই ভারতের হায়দ্রাবাদে খেলতে যান পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ার এ মেয়ে।