মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন জান্তা প্রধান, নতুন সেনাপ্রধান ইয়ে উইন ও
Printed Edition
বিবিসি ও ইরাবতি
মিয়ানমারের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইয়ে উইন ও। অন্য দিকে সদ্য সাবেক সেনাপ্রধান ও জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। সোমবার ইয়ে উইন ও-কে নতুন সামরিক প্রধান হিসেবে বেছে নেয়ার পর এই তথ্য সামনে আসে।
ইয়ে উইন ও-কে মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি মিন অং হ্লাইংয়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন। মিন অং হ্লাইং ইতোমধ্যে তিন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর একজন হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। মঙ্গলবার এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।
২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণ নেন মিন অং হ্লাইং। এই ক্ষমতা দখলের ফলে সু চির দল বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধ আরো তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পর মিন অং হ্লাইং গত ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে তিন ধাপে একটি নির্বাচন পরিচালনা করেন। এই নির্বাচনে জান্তা সমর্থিত দলগুলো জয়লাভ করে। সম্প্রতি মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইয়ে উইন ও-কে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদে উন্নীত করা হয়।
গতকাল সোমবার পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হলে সামরিক প্রধান মিন অং হ্লেইং প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন। এই পদের জন্য মিন অং হ্লাইংয়ের নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। কারণ পার্লামেন্টে তার সাথে এমন দু’জন অনুগত ব্যক্তিও মনোনীত হয়েছেন, যাদের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
দীর্ঘ দিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশের বিশাল এলাকা সশস্ত্র বিরোধী দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনকে সামরিক জান্তা শান্তির পথ হিসেবে প্রচার করেছে এবং সাধারণ মানুষকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু এই ভোটকে ব্যাপকভাবে একটি প্রহসন হিসেবেই দেখা হয়েছে কারণ গৃহযুদ্ধের কারণে অনেক জনপ্রিয় দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে যে, ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। মিয়ানমারের নতুন সংসদের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য মিন অং হ্লেইং-এর প্রতি অনুগত। হয় তারা সশস্ত্র বাহিনীর কর্মরত কর্মকর্তা অথবা সামরিক বাহিনীর নিজস্ব দলের নির্বাচিত প্রার্থী।