আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের দাবি
Printed Edition
টঙ্গীতে আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের দাবি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে টঙ্গী প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি করেন। বক্তারা বলেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ড ছিল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের। অথচ এ হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ তাদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাচ্ছে।
টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ মেরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি শেখ আজিজুল হকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় টানা বারো বছর কারাভোগের পর নির্দোষ প্রমাণ হয়ে উচ্চ আদালত থেকে বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু এবং অবিভক্ত টঙ্গী থানা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আইয়ুব আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘সূর্য পূর্ব আকাশে উদিত হয়ে পশ্চিম আকাশে অস্তমিত হয় যেমন চির সত্য, তেমনি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকার আহাসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয় তেমনি সত্য।’ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু বলেন, ‘বীরমুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকারকে শোনাকথার সাক্ষীতে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজির বিহীন।’ তিনি বলেন, আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মামলার বাদি মতিউর রহমান মতি এ হত্যাকাণ্ডের আগে যে ঝুপড়ি ঘরটিতে ভাড়া থাকতেন সেটি দখল করে অট্টালিকা গড়েছেন। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গী নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনে খুন হন আহসান উল্লাহ মাস্টার। এ ঘটনায় আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতি বাদি হয়ে ১৭ জনের নামে টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালত এই মামলায় বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।