রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল

Printed Edition

বিবিসি

ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ধাক্কায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রভাব কমিয়ে আনার চেষ্টায় মার্কিন প্রশাসন এবার বিভিন্ন দেশকে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞায় থাকা রুশ তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে। তবে সব রুশ তেল কিনতে পারবে না তারা, কেবল এখন সমুদ্রে কোনো নৌযানে আছে এমন তেলের ওপর থেকেই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।

এই অনুমতি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে জানিয়ে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, যুদ্ধের মধ্যে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টায়’ এ সাময়িক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর তেলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ‘সীমিত পরিসরের এই স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা শুধু জলপথে থাকা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এতে রাশিয়া সরকার কোনো উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধাও পাবে না,’ বলেছেন তিনি। ইরান যুদ্ধের মধ্যে উপসাগরে বিভিন্ন নৌযান ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং জ্বালানি পরিবহনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্যারেল-প্রতি তেলের দাম ফের ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। আরো তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার প্রত্যয়ের পর বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও পতন দেখা গেছে।

বিশ্বের মোট তেলের এক পঞ্চমাংশই হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তেলের দামের অস্থিরতা ঠেকাতে বিভিন্ন দেশকে নানান পদক্ষেপও নিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।