‘দক্ষ জনশক্তি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়তে উন্নয়ন পরিকল্পনা : ৪
নিয়োগ বিধি সংশোধন করে নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ
Printed Edition
কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা কাটিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনতে নতুনভাবে চিন্তা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের কাজে গতি আনতে অধিদফতর এবং আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের জন্য নতুন কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়োগ বিধিতেও সংশোধনী আনা হচ্ছে। নতুন এসব বিষয় প্রসঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলেরও অনুমোদন পাওয়া গেছে। শিগগিরই নতুন এই পদগুলোতে কর্মকর্তা নিয়োগ কার্যক্রমও শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র মতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের ২৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব গত ২৫ মে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১১টি ক্যাডার এবং ২৪টি নন ক্যাডার পদ সৃষ্টির বিষয়েও প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন এই পদগুলোর স্কেল ভেটিংয়ের জন্য অর্থ বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর দিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর নন গেজেটেড (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) ‘নিয়োগ বিধিমালা ২০১৫’ সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। অল্প সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রমও শুরু করা হবে। এখানে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের জন্য ১৮টি পদ এবং আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের জন্য আরো ৮০টি পদ সৃষ্টির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ দিকে দীর্ঘ দিন ধরেই অন্যতম একটি দাবি ছিল ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদবি পরিবর্তনের বিষয়ে। সম্প্রতি বিষয়টির একটি সুষ্ঠু সমাধানের দিকে এগিয়েছে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। পদবি পরিবর্তনের পাশাপাশি এখন নিয়োগ বিধিতে বিষয়টি অন্তভর্ুুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সমসংখ্যক পদ সৃজন ও নিয়োগ বিধি সংশোধন প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধন বিধিতে তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, নতুন প্রস্তাব অনুসারে জুনিয়র ল্যাব সহকারী (টেক) যাদের গ্রেড হবে ১৬তম, তাদের নিয়োগ হবে সরাসরি। আর ল্যাব সহকারী (টেক) ও সিনিয়র ল্যাব সহকারী (টেক) যাদের গ্রেড হবে ১৩তম, তাদের পদোন্নতির মাধ্যমে এই পদ পূরণ করা হবে। আর এভাবেই পদোন্নতি, অবসর, পদত্যাগ কিংবা মৃত্যুজনিত কারণে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টর পদটি ধাপে ধাপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
দেশের বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সরকারের সময় থেকেই কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবেই শিক্ষকদের পদ শূন্য রাখা হতো। শিক্ষার্থীদের দাবি এবং প্রয়োজনকেও পাশ কাটিয়ে নানাভাবে ফাঁকি দেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত এমন অনেকেই নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন দীর্ঘ দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষকদের ৭০ শতাংশ পদ শূন্য ছিল। শিক্ষক সঙ্কটে একাডেমিক ও ব্যবহারিক ক্লাসের সময় কমিয়ে শুধু নামমাত্রভাবে শেষ করা হতো সিলেবাস। আর এভাবেই বছর শেষ করে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে সনদ। ফলে দিন দিন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মান কমে আসছিল। তবে এখন যেভাবে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের ব্যবধানেই দেশের কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে টেকনিক্যাল কলেজগুলো।
অনেক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আওয়ামী সরকারের আমলে পরিকল্পিতভাবেই কারিগরি শিক্ষাকে তলানীতে নেয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। আর যে কারণে এ খাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বিগত দিনে আশঙ্কাজনকহারে কমেছে। অভিযোগ রয়েছে আমলাদের একটি মহল দীর্ঘদিন এ দেশের কারিগরি শিক্ষাকে ধ্বংস করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এমন পরিস্থিতিতে দিন দিন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মান কমেছে। এখন গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের যে আমূল পরিবর্তন শুরু হয়েছে সেই পরিবর্তনের ধারায় দেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছেন এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই।