জুলাই সনদ এখন আর ফোকাসে নাই : মান্না

Printed Edition
Back-------2
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এইচআরএসের আলোচনা সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, জুলাই সনদ এখন আর আমাদের ফোকাসে নেই। জুলাই সনদ নিয়ে কথাবার্তা বলছি কিন্তু এটি সংসদে আর আসবে না। সংসদকে তো আর অস্বীকার করতে পারবেন না। সংসদের মধ্য দিয়েই যেতে হবে। অধ্যাদেশগুলোর যে পরিণতি হয়েছে তাতে এগুলোকে তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। তিনি বলেন, কতগুলো সংস্কার কমিশন হলো, কিন্তু একটাই আছে, সেটা নিয়ে আমরা এখন কোন পথে যাব তারও ডিরেকশন নাই।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি আয়োজিত বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি : চ্যালেঞ্জ, অগ্রগতি ও করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, সমস্ত জায়গায় একটা একটা করে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে, তার জন্য বিরোধী দল বা শ্রমিক শ্রেণী দাঁড়িয়ে গেছে এমনটি হয়নি। সরকার বলছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু এটাতে শ্রমিকের কোনো স্বার্থ আছে? সংশোধন বা সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে সেখানে শ্রমিকের স্বার্থ কী রকম করে আছে? শ্রমিক আন্দোলনকে রাজনীতির মধ্যে প্রতিস্থাপন করতে না পারলে শ্রমিকের স্বার্থ আদায় করা সম্ভব হবে না। যতই ট্রেড ইউনিয়নিজম করেন ওতে কোনো লাভ হবে না। কতগুলো সোশ্যাল বেনিফিট, বেতন বা ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধি বা ওভারটাইমের জন্য আন্দোলন করলেন, সব মিলিয়ে ১০০ টাকা বাড়লেও জিনিসপত্রের দাম বাড়ল ১১০ টাকা তাহলে কী লাভ? প্রতিনিয়ত এই তো হচ্ছে।

মান্না বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান আমাদের পরিশীলিত হওয়ার পরিবেশ তৈরি করেছে। সবাই কথা বলতে পারছে। একটা সিঁড়ি হলেও এগিয়েছি কিন্তু শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সংসদে কোনো কথা হয়নি, অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়েও কোনো কথা হয়নি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি ও শ্রমিক নেতা শাহ মোহাম্মদ জাফর বলেন, দেশে ৭ কোটি ৬৫ লাখ শ্রমিক থাকলেও তারা সংগঠিত নয়। সংগঠিত শক্তি ছাড়া কোনো আন্দোলনই সম্ভব না। সরকার ও মালিক পক্ষ অক্টোপাসের মতো শ্রমিকের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তিনি বলেন বেকার ভাতা দিয়ে শ্রমিকের কোনো কল্যাণ হবে না। শ্রমিকের নায্যমজুরি নিশ্চিত করতে হবে। তাকে কাজের পরিবেশ দিতে হবে।

শ্রমিক নেতা সুলতানউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা এমন শহরে বাস করি যেখানে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি পায় না। মো: নূর খান লিটন বলেন, শ্রমিকদের ভবন ধস, অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, বিচারহীনতা মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। শ্রমিকের মৃত্যুজনিত ক্ষতির পরিমাণ এতই কম, যা উপহাস মাত্র। তিনি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের জন্য পূর্ণদিবস স্কুল চালুর উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানান। অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য দরকার, তা না হলে শ্রমিকদের সঙ্কট নিরসন করা সম্ভব নয়।