আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি
Printed Edition
চাঁদ যখনি ঈদের চাঁদ
আতিক রহমান
চাঁদ একটাই কতবার উঠে ডুবে
পশ্চিম থেকে পুবে
ওই চাঁদখানি আবেগের দিন আনে
ত্যাগ মহিমার গানে-
ওই চাঁদ দেখে পালিত হচ্ছে দিন
রাব্বুল আলামিন-
গড়েছেন চাঁদ অপরূপ ঝলমল
বুকের নদীতে কবিতার ঢেউ বয়ে যায় কলকল!
চাঁদ একটাই কতবার কত রূপে
হেসে ওঠে চুপে চুপে
কখনো বাঁকা সে কখনো বা গোলাকার
শূন্যে ভেসে সে হচ্ছে কোথায় পাড়?
চাঁদ মায়াময় হলেই উদয়
ঈদের বার্তা আনে
যত রোজাদার খুশির জোয়ার
বয় তোমাদের পানে।
ঈদ মোবারক
আলমগীর কবির
খুশির ভোরে ঘুম ভেঙে যায় মুয়াজ্জিনের আজানে
সালাত আদায় করার জন্য তাড়া দিলেন বা’জানে!
আলোয় ভরা ঈদের সকাল খুব পবিত্র তা জানো?
পাঞ্জাবি গায় মসজিদে যাই সাথে আছেন বা’জানও।
ছোট বড় সবাই আছেন আজ ফজরের সালাতে
চারিদিকে আলোর মেলা আঁধার দেখি পালাতে!
বাড়ি ফিরেই আম্মাজানকে ব্যস্ত দেখি রান্নাতে
মন ভরে যায় মায়ের কথায় খুশির হীরে পান্নাতে!
সবার আগে বোন পেয়েছে নতুন জামার ঘ্রাণ রাতে
ভুলেই গেছি বোনের সাথে ছিল অভিমান রাতে!
গোসল সেরে সেমাই খেয়ে মাঠে ছুটি আনন্দে,
মন আকাশে খুশির পাখি পেখম মেলে সানন্দে!
খুশির পালক যুক্ত হলো রঙিন দু’টি ডানাতে
ভুল করি না সবাইকে আজ ঈদ মোবারক জানাতে।
খোকার জামা
পঞ্চানন মল্লিক
এক মাস রোজা রাখা
এর পরে ঈদ
ঈদে নেবে নতুন জামা
ধরল খোকা জিদ।
বাসায় ছিল কাজের ছেলে
জামা নেই তার গায়
খোকার গায়ের জামাখানি
দান করিল তায়।
ঈদের চাঁদ
জয়নব জোনাকি
ঈদের বাঁকা চাঁদ উঠেছে
খুশির নাকি ঢেউ ছুটেছে
প্রতি ঘরে ঘরে!
মনের ভেতর কষ্ট পুষি
কি করে হয় ঈদের খুশি
নিত্য মানুষ মরে।
ঈদ আনন্দ দিকে দিকে
কারো খুশি হচ্ছে ফিকে
নেই যে ঘরের খুঁটি
কেমন তবে খুশির জোয়ার
মুখে হাসি রয়না তো-আর
পায়না ছেঁড়া রুটি।
কারো ঈদ হয় নতুন জামায়
কারো দুচোখ বর্ষা নামায়
হয়নাযে কেউ সুখী
কান্না-হাসির মিলনমেলায়
ভাঙাগড়ার করুন খেলায়
কেউবা থাকে দুখী।
বাংলাদেশ
মোশাররফ হোসেন খান
মাঠের পরে মাঠ চলেছে বিলের পরে বিল
ধানের ক্ষেতে বাতাস নাচে নীল আকাশে চিল।
নদীর বুকে পালের নাও
এসব রেখে কোথায় যাও
একটু থামো এই এখানে বাঁক ফেরানো ঘাটে
এই দেখনা খেলার সাথী বকের সারি হাঁটে।
পুবের মাঠে কাওন আছে
মটরশুঁটি বাদাম আছে
ঘাসের বুকে ঘুমায় জাদু শিশির ভেজা খাটে।
সোনার কাঠি রুপোর কাঠি
তার চেয়ে যে অনেক খাঁটি
দুধের বাটি উপচে পড়া শস্য-শ্যামল দেশ
সাতটি রঙে বাঁধা আমার সোনার বাংলাদেশ।
ঈদ গাহেরই ঢলে
নজরুল ইসলাম শান্তু
কালকে বাঁকা চাঁদ উঠলেই
পরশু হবে ঈদ
এই খুশিতে রিদু সোনার
নেই দু’চোখে নিদ।
রিদু সোনা ভাইয়ার কাছে
বায়না ধরে বলে
তোমার সাথে ঘুরব আমি
ঈদ গাহেরই ঢলে।
চটপটি ও ফুচকা খাবো
সব সাথীদের নিয়ে
ঈদের নামাজ করব আদায়
ঈদগাহ মাঠে গিয়ে।
প্রার্থনা
শঙ্খশুভ্র পাত্র
গীত গেয়ে শীত গেছে-এলো ঈদ বাংলায়
কোকিল ডাকছে ‘কুহু’...রোদ খেলে জানলায়
এসেছে কুটুমজন, মনে খুব ফুর্তি!
পরেছি নতুন জামা, টুপি আর কুর্তি।
খাওয়া হবে জোরদার-নানাবিধ বাহারে
ফিরনি-সেমাই রেডি- এসো বসো আহারে
সন্ধ্যায় বাঁকা-চাঁদে মেলে দেবো দৃষ্টি
ঈদগাহ মিলনের সংস্কৃতি, কৃষ্টি।
প্রিয়জনে কোলাকুলি- বলি, ঈদ মুবারক...
প্রার্থনা একটাই- সকলের শুভ হোক।
এই হলো ঈদ
রেজা কারিম
ঈদ মানে সেজেগুজে ঈদগাহে যাওয়া
বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে কত কিছু খাওয়া
একসাথে নামাজের আহা কী যে সুখ
বহুদিন পরে দেখা কত চেনা মুখ।
কোলাকুলি হাসাহাসি এক মাঠেতেই
ধনী আর গরিবের ভেদাভেদ নেই
এক পথে ঈদগাহে আর পথে ফেরা
নেই কোনো রেষারেষি নেই কোনো জেরা।
ইমামের খুতবায় মন উন্মুখ
ভালোবাসা বিতরণে প্রস্তুত বুক
কার ঘরে অনটন হাসি নেই মুখে
ছোটে সব চারিদিকে কেউ নেই রুখে।
যার মুখে হাসি নেই এনে দাও হাসি
দুখ নাও ভাগ করে বসে পাশাপাশি
এই হলো ঈদ জানি এই উৎসব
দেখে খুব খুশি হন আমাদের রব।