ক্রীড়াঙ্গনের মিমু আপা আর নেই

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

‘এই চল দুপুরে আমার বাসায় ভাত খাবে।’ মিরপর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে যখন জাতীয় বা সামার অ্যাথলেটিক্স হতো তখন আমাদের দেখলেই এভাবে স্টেডিয়ামে পাশে তার বাসায় খাবারের আমন্ত্রণ জানাতেন শামীমা সাত্তার মিমু। মিরপুর থেকে দেড় যুগেরও বেশি সময় আগে অ্যাথলেটিক্স চলে গেছে। আর ক্রীড়াঙ্গনে সবার প্রিয় মিমু আপাও আর কোনো দিন খাবার খেতে বাসায় যেতে বলবেন না। গত পরশু রাতে যে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেছেন সাবেক জাতীয় অ্যাথলেট মিমু আপা। পরশু রাত ১১টায় নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ দেশের সব ক্রীড়া ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থাগুলো। নিজ জেলা দিনাজপুরে মায়ের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়েছে তার ইচ্ছে অনুযায়ী।

১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছিল মিমুর খেলোয়াড়ি জীবন। তিনি জাম্প ইভেন্টের খেলোয়াড় ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে তার ২৭টি স্বর্ণ ১৩টি রৌপ্য এবং ৩টি ব্রোঞ্জ পদক ছিল। হাই জাম্পে লম্বা সময়ে ধরেই চ্যাম্পিয়ন ছিলেন তিনি। তিনবার করে জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন হাইজাম্প ও লংজাম্পে। ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসে লংজাম্পে সেরা আটে ওঠে সপ্তম স্থান পেয়েছিলেন। ২০০০ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া এ অ্যাথলেট খেলোয়াড়ি জীবন শেষে বিকেএসপিতে চাকরি নেন। বিলুপ্ত বিটিএমসির (বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন) সাবেক এ জাম্পার বিকেএসপির উপপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ভাটিকা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মাঝে স্ট্রোকেও আক্রান্ত হন। এ অবস্থায় সর্বশেষ অ্যাথলেটিক্স মিটে তিনি জাতীয় স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। তখনই তার সাথে সর্বশেষ দেখা। আর এখন তিনি পরপারে।