ফাহিমের ফাইফারে জয় রংপুরের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফাহিম আশরাফের ধ্বংসাত্মক বোলিং রংপুর রাইডার্সের ব্যাটারদের জন্য জয়ের কাজটা সহজ করে দিয়েছিল। এরপর ডেভিড মালান ও লিটন দাসের দুর্দান্ত ওপেনিং জুটিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে উড়িয়ে দিয়ে আসরে শুভ সূচনা করল রংপুর। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গতকাল টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭.৫ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০২ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় রংপুর।
১০৩ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন লিটন ও মালান। দু’জনে গড়েন ৯১ রানের জুটি। লিটন ৩১ বলে ৪৭ রান করে ফিরলেও মালান বিপিএল ক্যারিয়ারের নবম হাফ সেঞ্চুরি (৫১) করে সাজঘরে ফেরেন। শেষে খুশদিল শাহের ছক্কায় ৫ ওভার বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় রংপুর।
এর আগে টপ অর্ডারের কিছুটা লড়াই ছাড়া ব্যাটিংয়ে বড় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে চট্টগ্রাম। মাত্র তিনজন ব্যাটার দেখা পেয়েছেন দুই অঙ্কের। চট্টগ্রামের ব্যাটিং একাই ধসিয়ে দেন ফাহিম আশরাফ। ৩.৫ ওভারে ১৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান (২০ বলে ৭ চার এক ছক্কায় ৩৯) করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। দু’টি উইকেট পেয়েছেন রংপুরের দ্বিতীয় সেরা বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। এই জয়ে গত আসরের মতো এ আসরের শুরুটাও দাপুটে হলো রংপুরের। আর প্রথম ম্যাচ জয়ের পর, দ্বিতীয় ম্যাচে হারের মুখ দেখলো চট্টগ্রাম।
পরিকল্পনা ছিল সিম্পল : ফাহিম
বিপিএলে ফাইফারের স্বাদ পেলেন দ্বিতীয়বার। গত বিপিএলে মিরপুরে ফরচুন বরিশালের হয়ে ৭ রানে ৫ উইকেট নেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে। বিপিএলে ৫ উইকেট একাধিকবার শিকার করা মাত্র তৃতীয় বোলার তিনি। দুইবার করে এই সাফল্য পেয়েছেন থিসারা পেরেরা ও তাসকিন আহমেদ। লঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা বিপিএলে খেলেছেন ৮৮ ম্যাচ, তাসকিন খেলেছেন ৯০ ম্যাচ। ফাহিম তাদের স্পর্শ করলেন মাত্র ২০ ম্যাচেই।
সরল পরিকল্পনায় বল করেই ফাহিম শিকার করেছেন ৫ উইকেট আর জিতেছে তার দল। ম্যাচ শেষে বারবার একটি কথায় জানান, ‘দলের পরিকল্পনা ছিল ‘সিম্পল।’ নিজের পরিকল্পনাও ছিল ‘সিম্পল।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস : ১৭.৫ ওভারে ১০২ (নাঈম ৩৯, মির্জা ২০, আবু হায়দার ১৩, নাহিদ ১/৩৩, ফাহিম ২/১৭, আলিস ১/১৭, মোস্তাফিজ ২/১৯, মুকিম ১/১২)।
রংপুর রাইডার্স : ১৫ ওভারে ১০৭/৩ (মালান ৫১, লিটন ৪৭, মাহমুদুল্লাহ ১*, খুশদিল ৬*; জয় ১/৩০, মুকিদুল ২/৫)।
ফল : রংপুর রাইডার্স ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : ফাহিম আশরাফ।