২০০৮ সাল থেকে বিসিবির তদন্ত চাইলেন ক্রীড়ামন্ত্রী

Printed Edition
khela-2
সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন আমিনুল হক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার আগ থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে তুলনামূলক বেশি বক্তব্য রেখেছেন আমিনুল হক। সংসদ অধিবেশনে গতকাল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে থাকল বিসিবি।

বিসিবি নিয়ে কী ভাবছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। উত্তরে আমিনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে অর্থ কিংবা জনবল, তারা বিগত সময়ে যে ভোটের অধিকার হরণ করতে একটি গ্রুপকে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপকর্ম করেছেন। দায়িত্ব নেয়ার পরে এই বোর্ডের যারা অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন, সেই সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।’

আমিনুল আরো বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে ২০০৮ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডসহ দলীয়করণ এবং রাজনীতিকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে স্থবিরতা নিয়ে এসেছিল এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন যেভাবে ধ্বংসের পথে চলে গেছে, সেই ধ্বংসস্তূপ ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে দলীয়করণমুক্ত, রাজনীতিকরণমুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে চলেছি। ’

তাতে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। শুধু ক্রিকেট বোর্ড কেন? ক্রিকেট বোর্ডে অবৈধ নিয়োগ আর কর্মীদের আর্থিক দুর্নীতি তদন্তের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো- তদন্ত কি শুধু ক্রিকেট বোর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত? ক্রিকেটের পাশাপাশি দেশের ফুটবল ফেডারেশনসহ অন্য ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো বছরের পর বছর ধরে চলা অনিয়ম, অসঙ্গতি আর অপেশাদারিত্ব খেলাধুলাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের নির্দেশনা

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এপ্রিল ২০২৬ কর্মসূচি আয়োজনের লক্ষ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আহ্বান করা হয়েছে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ১২-১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এই কর্মসূচির আওতায় ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, মার্শাল আর্ট, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিক্স এবং কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিটি আগামী এপ্রিল থেকে শুরু করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নিমিত্তে ১২-১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করতে দেশব্যাপী বিদ্যালয়ভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্তকরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও অবকাঠামো ব্যবহারের সুবিধার্থে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণী থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক

আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণী থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রাথমিকভাবে সাতটি ডিসিপ্লিন দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে আরো বিভিন্ন খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং মাঠে শারীরিক কর্মকাণ্ডে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।