ঐতিহ্য ও আধুনিকতায় চাহিদার শীর্ষে কুমিল্লার খাদি কাপড়
Printed Edition
হাবিবুর রহমান চৌধুরী কুমিল্লা
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার বাজারে বরাবরের মতোই চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী খাদি। পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, ফতুয়া কিংবা শাড়ি; সব ক্ষেত্রেই খাদি কাপড়ের নান্দনিক ডিজাইন আর কারুকাজ নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও খাদি পোশাকের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সবার প্রথম পছন্দ এখন এই দেশি ব্র্যান্ড।
বুধবার দুপুরে নগরীর রাজগঞ্জ ও মনোহরপুর এলাকার খাদি বিপণিগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। কুমিল্লার রাজগঞ্জ থেকে কান্দিরপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত চার শতাধিক খাদি দোকানে কেনাকাটা চলছে রাতভর। ব্যাংক কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, খাদির কাপড় টেকসই এবং রঙ পাকা। অন্য ব্র্যান্ডের যে পাঞ্জাবি ছয় হাজার টাকা, প্রায় একই মানের খাদি পাঞ্জাবি মিলছে এক হাজার ৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক হওয়ায় কর্মজীবী নারীরাও বেছে নিচ্ছেন খাদি থ্রি-পিস ও শাড়ি।
খাদির ইতিহাস শত বছরের পুরনো। স্বদেশী আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীর বিদেশী পণ্য বর্জনের ডাকে খাদি হয়ে ওঠে আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক। কার্পাস তুলা থেকে হাতে কাটা সুতায় বোনা এই কাপড় এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে রফতানি হচ্ছে কুমিল্লার এই ঐতিহ্য। বিশেষত গত বছর খাদি কাপড়কে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর এর গুরুত্ব ও চাহিদা আরো বেড়েছে।
খাদিশিল্পীরা জানান, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে খাদি এখন শুধু মোটা কাপড়ে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক রুচি ও আধুনিক যন্ত্রের ছোঁয়ায় খাদি এখন অনেক বেশি মিহি ও ফ্যাশনেবল। নগরীর রাজবাড়ী এলাকার হিলটন টাওয়ারসহ বিশেষায়িত মার্কেটগুলোতে নতুন নতুন ডিজাইনের খাদি পোশাক এবারের ঈদে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। কুমিল্লার মানুষের কাছে ঈদ উৎসব মানেই যেন প্রিয়জনের জন্য এক টুকরো খাদি উপহার।