মাদারগঞ্জে সেতুর অভাবে ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

Printed Edition
bangla-3
মাদারগঞ্জে গাবেরগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে এলাকাবাসী : নয়া দিগন্ত

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গাবেরগ্রাম এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের অভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে তাদের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

মাদারগঞ্জ নতুনহাট থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দক্ষিণে এবং পৌরগেটের মাঝামাঝি স্থানে বর্তমানে একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু রয়েছে। এই সেতু দিয়ে কেবল পায়ে হেঁটে চলাচল করা সম্ভব, কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে আশপাশের গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও পণ্য পরিবহনে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়ে নদীপথে যোগাযোগ সহজ করতে দক্ষিণ গাবেরগ্রাম হয়ে যমুনার পূর্বপাড় পর্যন্ত একটি কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়। তবে মাঝখানে স্থায়ী সেতু না থাকায় সেই সড়কের পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী।

পৌরসভার দক্ষিণ প্রান্তের বনচিতলিয়া, চর৭৮, বীরনাদাগাড়ি, চরনাদাগাড়ি, শুভগাছা, জামথল, শুংগোচা, শোলদুপুরী, ডাকাতমারা, পশ্চিম সুখনগরী, চর সুখনগরী, ইন্দুরমারা, দীপচর, ফুলজোড় নাংলা, ফুলজোড় জাহুনেরচর, মূলাবাড়ি, আতামারি, কাইজেরচর ও বটতলা নাংলাসহ আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে নতুনহাটে যাতায়াত করেন। এই হাটটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে মরিচ, ভুট্টা, ধান ও শসাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচা হয়। তবে সেতু না থাকায় গরুর গাড়ি, অটোরিকশা, ভ্যান বা মোটরসাইকেলে পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। মাত্র ৫০০ মিটার পথ পাড়ি দিলেই নতুনহাটে পৌঁছানো সম্ভব হলেও সেতুর অভাবে তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।

এদিকে কাঠের সেতুর নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। এতে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি সেতুর পাশে অবস্থিত বনচিতলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। জরুরি সময়ে অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে।