ঈদের কেনাকাটার ধুমধামে রাজধানীতে বৃষ্টি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছুটির দিনে ঈদের কেনাকাটার ধুমধামে ব্যস্ত সময়ে শিলাসহ বৃষ্টি হয়ে গেল গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর। শিলাবৃষ্টির সাথে কোথাও কোথাও দমকা বাতাসের ঝাপটাও ছিল। ঢাকা শহরসহ চারপাশের মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নরসংিদী, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর জেলাতেও বৃষ্টি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মাঝারি থেকে ভারী মানের বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি তবে সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
খোলা আকাশে ভাসমান দোকানে না শীত না গরম আবহাওয়ায় যারা ঈদের কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন ভেজা কাপড়-চোপড় নিয়েই তাদের ঘরে ফিরতে হয়েছে। অন্য দিকে ঢাকা শহরের ফুটপাথের দোকানগুলো বৃষ্টির পানিতে ভিজে একাকার। ঈদ মৌসুমের জন্য তোলা কাপড়-চোপড় অন্যান্য সামগ্রী পানিতে ভিজে এমন হয়েছে শেষ পর্যন্ত আর সেগুলো বিক্রি হয়নি।
এটা কালবৈশাখীর সময়। আবহাওয়া অফিস বলছে, এখন প্রায়ই দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্র বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশবাসীকে এই ব্যাপারটি মাথায় নিয়ে এখন থেকে সামনের দিনগুলোতে বাইরে বের হতে হবে। ব্রজ বৃষ্টি হতে পারে এ ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। বৃষ্টিপাত হতে থাকলে বাইরে কাজ ফেলে দিয়ে দ্রুত ঘরে অথবা নিারপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। এমন সময় গাছের নিচে কোনোভাবেই থাকা যাবে না। শহরে বিদ্যুতের খুঁটির কাছাকাছিও থাকা যাবে না। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি বেশি সময় স্থায়ী হয় না। কিছুক্ষণের মধ্যেই থেমে যায়। আবহাওয়ার আগামী ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী বুধবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ধরনের বৃষ্টির সাথে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। এটা কালবৈশাখীর সময়। এমন হবে এটাই স্বাভাবিক।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: সাজেদুর রহমান বলেন, বৃষ্টির মধ্যে বেশিক্ষণ ভিজলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। ঠাণ্ডা যদি লেগেই যায় তাহলে প্যারাসিটামল ও অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খেলে সুস্থ থাকা যায়। বৃষ্টিতে ভিজে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেলে শরীরকে গরম রাখার জন্য গরম পানি, লেবু মেশানো রং চা বেশ উপকারী। শরীর গরম রাখতে পারলে ঠাণ্ডা লাগার সম্ভাবনা কম থাকে।
আজ শনিবার আবহাওয়ার পূর্বাবাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই সময়ে ঝড়বৃষ্টি হলে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মানুষের ঈদযাত্রায়ও বিঘœ ঘটতে পারে। আবার অতিরিক্ত গরম পড়লেও ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। ঈদের আগে আগে বা ঈদের দিন বৃষ্টি হলে খোলা মাঠে ঈদের জামাত আয়োজনেও সমস্যা হতে পারে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় সিলেটে ৮৩ মিলিমিটার। এ ছাড়া নেত্রকোনায় ৪৭, মৌলভীবাজারে ৩৬, দিনাজপুরে ১৮, বগুড়া ও নওগাঁয় ১২ মিলিমিটার, পঞ্চগড়ে ১১, ফেনীতে ৯, রংপুরে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে দিন দিন তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।