জাতীয় সংসদ নির্বাচন
মারণাস্ত্র ব্যবহার না করলেও কঠোর থাকবে বিজিবি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মারণাস্ত্র ব্যবহার করা না হলেও কঠোর অবস্থানে থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দেশের চার হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই নির্বাচনে সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং বিজিবি হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত রাখা হবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান।
তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা সেক্টরের অধীন ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ ও ২৬ বিজিবি), নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) এবং গাজীপুর ব্যাটালিয়নের (৬৩ বিজিবি) আওতাভুক্ত এলাকায় ৯টি জেলা এবং চারটি সিটি করপোরেশনের মোট ৫১টি আসনে ১৩৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ৪২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়াও বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট মোতায়েন থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দেয়া দায়িত্ব অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সব লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে বিজিবি প্রস্তুত। ভোটাররা যেন ভয় ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন- এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদস্যদের এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতি পেশাদারত্বের সাথে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়াও নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম, কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং বিজিবি হেলিকপ্টার ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। প্রয়োজনে যেকোনো মুহূর্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য স্বল্পসময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিজিবি সক্ষম।
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর, এপিসি, আধুনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ সরঞ্জামাদি ব্যবহার করবে, যার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন এবং সেক্টর সদর দফতরে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে টহল পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন, যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে কোনো মহল নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের মহাপরিচালকের নির্দেশ, আমরা নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের লেথাল ওয়েপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করবো না’। দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে বলে জানান কর্নেল এস এম আবুল এহসান। তিনি বলেন, আমাদের যেসব বেস ক্যাম্প রয়েছে সেগুলোর মোবাইল নম্বর রিটার্নিং অফিসারের কাছে রয়েছে। কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সুরক্ষা অ্যাপ রয়েছে, সেখানেও অ্যাপসের মাধ্যমে জানাতে পারবেন।