ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন
গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টায় মিঠাপুকুরে বিএনপি নেতা পদচ্যুত
Printed Edition
রংপুর ব্যুরো
রংপুরের মিঠাপুকুরে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এনামুল হককে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এনামুল ভাংনি ইউনিয়ন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক। ঘটনার পর ওই নেতা সপরিবারে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে উপজেলা বিএনপি।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্থানীয়পর্যায়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছিলেন। এনামুল হক তাকে এই কাজের পুরস্কার হিসেবে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেয়ার আশ্বাস দেন। গত ২৪ ও ২৫ এপ্রিল এনামুল ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে তার মোবাইল নম্বর চান এবং কুপ্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি গৃহবধূকে পেছন থেকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। গৃহবধূ কৌশলে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন এবং বিষয়টি স্বজনদের জানান।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের চাপে এনামুল হক গত ৯ বছরের ভাড়া বাসার বকেয়া পরিশোধ করে মঙ্গলবার সপরিবারে এলাকা ছেড়েছেন। তবে অভিযুক্ত এনামুল হকের দাবি, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এবং তিনি কেবল ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলতে গিয়েছিলেন, ধর্ষণের চেষ্টা করেননি।
মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী জানান, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অভিযোগে এনামুলকে সাময়িকভাবে পদচ্যুত করা হয়েছে। ভাংনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে কোনো অরাজকতা বরদাশত করা হবে না।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, অভিযুক্ত এনামুল সপরিবারে পালিয়ে যাওয়ার আগে ক্ষমা চেয়েছে, তাই তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। বর্তমানে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।