উৎসবের আমেজে সরগরম লক্ষ্মীবাজারের ফুটপাথ
ঈদ বাজার
Printed Edition
হাবিবুল বাশার
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে লক্ষ্মীবাজারের নাম। সূত্রাপুর, শাখারী বাজার, কলতাবাজার কিংবা বাংলাবাজার- এই পুরো অঞ্চলের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার বড় একটি অংশ দখল করে আছে লক্ষ্মীবাজারের ফুটপাথের অস্থায়ী দোকানগুলো। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের জিনিস কিনতে পেরে খুশি সব শ্রেণীর ক্রেতারা।
লক্ষ্মীবাজারের ফুটপাথে বেচাকেনার ইতিহাস বেশ পুরনো এবং বর্ণাঢ্য। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলটি শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ১৮৫০-এর দশকে এখানে সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি জনবহুল হতে শুরু করে। পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের মতো বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একে একটি স্থায়ী ছাত্র-জনতার মিলনস্থলে পরিণত করে।
সেই জনস্রোতকে কেন্দ্র করেই কয়েক দশক আগে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ফুটপাথে ছোট ছোট পসরা নিয়ে বসতে শুরু করেন। এক সময় যা ছিল কেবল জরুরি প্রয়োজনের কেনাকাটা, আজ তা বিশাল এক পূর্ণাঙ্গ বাজারে রূপ নিয়েছে। এই ফুটপাথ মূলত নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ‘সুপার মার্কেট’ হিসেবে পরিচিতি পেলেও, পণ্যের বৈচিত্র্য আর সস্তা দরের কারণে এখন রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উচ্চবিত্তরাও এখানে ভিড় জমান। এটি এখন কেবল একটি বাজার নয়, বরং পুরান ঢাকার যাপনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পছন্দের গন্তব্য
লক্ষ্মীবাজারের কেনাকাটার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্রেতাদের বৈচিত্র্য ও তারুণ্যের উপস্থিতি। সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এখানে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজের ছাত্রীরা তাদের প্রয়োজনীয় সাজসজ্জার সামগ্রী ও ট্রেন্ডি পোশাকের জন্য এই ফুটপাথকেই প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নেন।
এ ছাড়া এলাকার গৃহিণী ও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে এখানে ভিড় জমান। মূলত দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই বাজারের চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর লাইটের আলোয় যখন ঝলমলিয়ে ওঠে ফুটপাথ, তখন মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে পা ফেলার জায়গা থাকে না। বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সের জৌলুস হয়তো এখানে নেই, কিন্তু কেনাকাটার যে প্রাণের স্পন্দন এখানে অনুভূত হয়, তা সত্যিই অনন্য।
লক্ষ্মীবাজারের ফুটপাথে দরের তালিকা
পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস- সবই মিলছে হাতের নাগালে। নারী-পুরুষ ও শিশুদের রঙ-বেরঙের পোশাকের পাশাপাশি এখানে প্রসাধনী সামগ্রীর বিশাল সমাহার রয়েছে। ফুটপাথের এই অস্থায়ী দোকানগুলোতে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা হয়েছে:
টি-শার্ট : পাওয়া যাচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।
শার্ট : বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়।
প্যান্ট : মানভেদে পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।
পাঞ্জাবি : ৩৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে মিলছে হরেক রকমের নকশা।
জুতা-স্যান্ডেল : ফ্যাশনেবল স্যান্ডেল পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।
বাচ্চাদের পোশাক : শিশুদের বিভিন্ন শার্ট, ফতুয়া ও প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে।
মেয়েদের পোশাক : সালোয়ার-কামিজ, টপস, ওয়ান পিস ও থ্রিপিস পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রেটে।
প্রসাধনী : নেইলপলিশ, লিপস্টিক, কাজল, চুড়ি, ফিতা ও ক্লিপ পাওয়া যাচ্ছে অত্যন্ত সুলভ মূল্যে।