৩২ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পরিবর্তনের গুঞ্জন আলোচনায় বরিশাল ভার্সিটি

Printed Edition

ববি প্রতিনিধি

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানসহ সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ইতোমধ্যে পরিবর্তন করেছে সরকার। দ্বিতীয় ধাপে আরো ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যার মধ্যে অন্যতম আলোচনায় রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। দক্ষিণবঙ্গের ‘বাতিঘর’ খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৫ বছরে ছয়জন ভিসি দেখলেও অবকাঠামো ও শিক্ষা মানের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান (ষষ্ঠ) ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। ২০২৩ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন এবং পরে ১০ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে নিয়োগ পেলেও তার সময়ে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বরং তার মেয়াদে প্রশাসনিক জটিলতা ও সঙ্কট আরো প্রকট হয়েছে। ৯ মাসেও একটি খেলার মাঠ সংস্কার করতে না পারা, ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণে ব্যর্থতা এবং ঝুলে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ ও আপগ্রেডেশন বোর্ড না বসাতে পারায় বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালে তৃতীয় ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: ছাদেকুল আরেফিনের বিরুদ্ধেও রয়েছে একরাশ অভিযোগ। তার পূর্ণ মেয়াদে অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন সঙ্কট বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শুরুর দিকের সফলতার কথা স্মরণ করে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ খান এবং দ্বিতীয় ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হকের সময়েই মূল অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নতুন বিভাগ খোলার কাজগুলো দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা ভিসির হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি এগোতে পারেনি বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধারণা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা নিয়ে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা জানান, ঢাকার বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা কাউকে তারা আর ভিসি হিসেবে দেখতে চান না। শিক্ষার্থীদের মতে, অতীতে ঢাকার বাইরের ভিসিরা সঙ্কট সমাধানের চেয়ে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে পিছিয়ে দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সঙ্কট, শ্রেণিকক্ষের সঙ্কট, ল্যাব সঙ্কট, শিক্ষক সঙ্কটসহ সকল ধরনের সঙ্কট ও সেশনজট নিরসনে কাজ করবে এমন কাউকে দেখতে চান তারা। সর্বোপরি ভিসি শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করবেন এমন প্রত্যাশা তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাসেল হোসেন বলেন, আমরা চাই শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় যেন ভিসি নিয়োগ না দেয়া হয়।

একজন একাডেমি শিয়ান, দক্ষ- যোগ্য শিক্ষার্থীবান্ধব একজনকে ভিসি হিসেবে দেয়া হোক যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক সমস্যা সমাধান করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভব্রত মণ্ডল বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র অবকাঠামোগত ও শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। এসব সঙ্কট সমাধান করে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন এমন একজনকে ভিসি হিসেবে দেখতে চাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকার বাইরের ভিসিগুলো তেমন একটা ভালো করতে পারেন না।