সোনারগাঁওয়ে মেঘনার তীরে দৃষ্টিনন্দন আমান মসজিদ

Printed Edition
bangla-4
সোনারগাঁওয়ে মেঘনার তীরে দৃষ্টিনন্দন আমান মসজিদ

হাসান মাহমুদ রিপন সোনারগঁাঁও (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগঁাঁও উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত আমান মসজিদ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নান্দনিক নকশা, খোলামেলা পরিবেশ ও শান্ত আবহের কারণে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ মসজিদটি দেখতে আসছেন।

বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামহি এলাকায় আমান ইকোনমিক জোনের অভ্যন্তরে নির্মিত এ মসজিদ স্থানীয়ভাবে ‘আমান মসজিদ’ নামে পরিচিত। মূলত শিল্পাঞ্চলে কর্মরত মানুষের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সুবিধার জন্য এটি নির্মাণ করা হলেও সময়ের সাথে এটি এলাকার সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

মসজিদটি একতলা এবং এর স্থাপত্যে রয়েছে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য। ভেতরে কোনো পিলার নেই, ফলে প্রশস্ত নামাজের স্থান তৈরি হয়েছে। পাশে রয়েছে আলাদা নকশার সুউচ্চ মিনার, যা দূর থেকেই নজর কাড়ে সবার। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় মসজিদের সৌন্দর্য আরো সুন্দররূপে ফুটে ওঠে। তবে দিনের আলোতেও শুভ্র অবয়ব ও খোলা পরিবেশে এর সৌন্দর্য সমানভাবে ধরা পড়ে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে শেষ হয়। প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এ মসজিদে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা।

মসজিদের প্রধান স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার বলেন, মসজিদের ভেতরে শান্ত ও নির্মল পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই নকশা করা হয়েছে। বাইরের শব্দ যেন ভেতরে প্রবেশ করে ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, মসজিদের খিলান ও বিশেষ প্যাটার্নযুক্ত নকশা দিয়ে প্রাকৃতিক আলো ভেতরে প্রবেশ করে। সম্মুখভাগের ত্রিভুজাকার ওপেনিং দিয়ে সূর্যের আলো নামাজের স্থানে পড়ার কারণে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে।

আমান ইকোনমিক জোনের ডিজিএম মো: নাদিরুজ্জামান বলেন, মসজিদের চারপাশে অর্ধ-উন্মুক্ত বৃত্তাকার জায়গা রাখা হয়েছে, যা আলো-বাতাস চলাচলের প্রধান উৎস। চারপাশের ল্যান্ডস্কেপ ভবনের সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশের সুন্দর সমন্বয় ঘটিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন আশপাশের এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন। এসে তারা নামাজ আদায় করেন।

নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে ঘুরতে আসা চার বন্ধু সাজু আলম, রাব্বী হোসেন, তনয় ও মোক্তার বলেন, মসজিদটির কথা অনেক শুনেছিলেন। তাই, রাতে আলোকসজ্জায় এটি দেখতে এসেছি। তারা বলেন, ‘মসজিদে গিয়ে মনটা প্রশান্ত হয়ে গেছে। খোলা পরিবেশ, নদীর বাতাস আর নীরবতা- সব মিলিয়ে অসাধারণ এক অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে।’

নান্দনিক স্থাপত্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সমন্বয়ে আমান মসজিদ এখন সোনারগাঁওয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা হয়ে উঠেছে।