ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়ন হলে বাড়বে তেল পরিশোধন সক্ষমতা
Printed Edition
রাশিদুল ইসলাম
দেশের একমাত্র তেল পরিশোধন কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও বিলম্বের পর সম্প্রতি প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থায়নের জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) সাথে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের তেল পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের একমাত্র তেল পরিশোধন কেন্দ্র। শিল্পোদ্যোক্তা আব্বাস খলিলির উদ্যোগে ১৯৬৬ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬৭ সালের ৭ মে এটি উৎপাদনে যায়।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরব, আবুধাবিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেনসহ ১৪ ধরনের জ্বালানি তেল উৎপাদন করে থাকে। তবে এর বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন। অথচ দেশে বছরে তেলের চাহিদা প্রায় ৬৫ লাখ টন।
ফলে দেশের অধিকাংশ পরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে বছরে আরো প্রায় ৩০ লাখ টন তেল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এতে দেশের মোট পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি রফতানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রোল বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ তেল স্থানীয়ভাবে পরিশোধন করা সম্ভব হচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন হলে এই সক্ষমতা আরো বাড়বে।
তিনি জানান, নতুন ইউনিটে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর ফলে সালফার দূষণ কমবে এবং উৎপাদিত সালফার সার তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিফাইনারি সম্প্রসারণের উদ্যোগ বহু বছর ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল। এ সময়ের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারির কথা উল্লেখ করা হয়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সেখানে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হয়েছে।
অন্য দিকে বাংলাদেশে সৌদি আরবের আরামকোসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি রিফাইনারি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখালেও নানা কারণে সেই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকি একটি দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী বেসরকারি উদ্যোগে রিফাইনারি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও এগিয়েছিল, কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। এখন দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হবে।’
তার মতে, উন্নত প্রযুক্তির রিফাইনারি স্থাপন করা গেলে শুধু দেশের চাহিদা পূরণই নয়, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত জ্বালানি রফতানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে পারবে।