জ্বালানি খাতে বিপ্লব আনতে পারে ‘হোয়াইট হাইড্রোজেন’

Printed Edition

ডয়চে ভেলে

বিশ্বজুড়ে কার্বন নির্গমন কমাতে দীর্ঘ দিন ধরে হাইড্রোজেনের ওপর জোর দিচ্ছেন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতারা। তবে এর উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে মাটির নিচে থাকা প্রাকৃতিক বা ‘হোয়াইট হাইড্রোজেন’ জ্বালানি খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে হাইড্রোজেনের চাহিদা তিন গুণ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। তবে বর্তমানে বেশির ভাগ হাইড্রোজেন জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে তৈরি হয়। আর নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাত্র ১ শতাংশেরও কম হাইড্রোজেন উৎপাদিত হয়। ভূতত্ত্ববিদরা জানান, কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর ভূতত্ত্বে প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে হোয়াইট বা প্রাকৃতিক হাইড্রোজেন তৈরি হয়েছিল। এটি এখন জ্বালানির একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎস হতে পারে। ডিডব্লিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ুর্গেন গ্রোটশ বলেন, ‘পৃথিবীর আবরণের বেশির ভাগ অংশই লোহা সমৃদ্ধ শিলা। ২০০ থেকে ৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এটি যখন পানির সংস্পর্শে আসে, তখন লোহা মূলত পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং বিশুদ্ধ হাইড্রোজেন রেখে যায়।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) গবেষকদের মতে, পৃথিবীর ভূতত্ত্বের ভেতর প্রায় ৫ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন টন হাইড্রোজেন আটকে থাকতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এর বেশির ভাগ অংশ অনেক গভীরে থাকলেও এই প্রাকৃতিক মজুদের মাত্র ২ শতাংশ উত্তোলন করা গেলে তা দিয়ে প্রায় ২০০ বছর ধরে বিশ্বের হাইড্রোজেনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। সবচেয়ে হালকা উপাদান হওয়ায় হাইড্রোজেন পৃথিবীর আবরণ থেকে ফাটল দিয়ে উপরের দিকে উঠে আসতে পারে। কখনো কখনো এটি ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে। তবে বেশির ভাগ সময় এটি বেলেপাথরের মতো ছিদ্রযুক্ত পাথরের ভূগর্ভস্থ জলাধারে জমা হয় এবং শক্ত পাথরের ঘন স্তরের নিচে আটকে থাকে। বিশ্বের কয়েক ডজন কোম্পানি এখন ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক হাইড্রোজেনের সন্ধান করছে।