ডান পকেটে এসপি, বাম পকেটে মন্ত্রী : যুবককে পেটাতে পেটাতে বললেন যুবদল নেতা

অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় আক্রান্তরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন

Printed Edition

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

‘ডান পকেটে ১০ জন এসপি, বাম পকেটে ১০ জন মন্ত্রী। মন্ত্রী-মিনিস্টার আমাদের লোক। আমাদের কিছুই করতে পারবে না’ চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় এক যুবককে নির্যাতনের সময় এভাবেই দম্ভোক্তি প্রকাশ করেছেন দর্শনা থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক টুটুল শাহ। এসির তার কাটার সন্দেহে ওই যুবককে বেধড়ক মারধর, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

গত শনিবার এ ঘটনায় দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী যুবক ইমনের মা শিউলী খাতুন। অভিযুক্তরা হলেন দর্শনা পুরাতন বাজার এলাকার টুটুল শাহ, রুবেল শাহ, বকুল শাহ ও নাঈম শাহ। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে দর্শনার পুরাতন বাজার এলাকায় অভিযুক্তদের বাড়ির এসির তার কাটার সন্দেহে স্থানীয় শ্যামপুর গ্রামের ইমনকে (১৯) ডেকে নেয়া হয়। ইমন তখন তার দাদার চায়ের দোকানে কাজ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইমনকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে ঘাড়, পিঠ ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে তাকে খুন ও গুমের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। নির্যাতনের সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দীন বলেন, ‘ছেলেটাকে বিনা দোষে ডেকে নিয়ে খুব মারধর করা হয়েছে। ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেয়ায় পরিবারটি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইমনের মা শিউলী খাতুন জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এমন দম্ভোক্তির বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।