চরাঞ্চলের জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়নে জাতীয় অগ্রাধিকার জরুরি

কর্মশালায় বক্তারা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, দারিদ্র্য ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের চরাঞ্চলের লাখো মানুষ এখনো মূলধারার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও জীবিকা সঙ্কট বাড়তে থাকায় এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি দিন দিন আরো গভীর হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় জাতীয় নীতি, পরিকল্পনা ও বাজেটে চরাঞ্চলের জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়নকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা।

গতকাল রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবনে ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের (এনসিএ) আয়োজনে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ইন চর এরিয়াস অ্যালং দ্য যমুনা রিভার বেসিন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এমন মতামত জানান বক্তারা।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সুইস রেড ক্রসের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন যমুনা প্রকল্পের সহায়তায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও অগ্রগতি তুলে ধরেন যমুনা প্রকল্পের পরিচালক মো: জসিম উদ্দীন কবির এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব জাহিদ রহমান।

আলোচকরা বলেন, চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের জীবন ও জীবিকা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে, যার ফলে খাদ্যনিরাপত্তা ও আয়-রোজগার অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্যোগ পূর্বাভাস, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, টেকসই বাঁধ, জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি, বিকল্প জীবিকাসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।

কর্মশালায় চরবাসীর দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ুবান্ধব উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি ও সম্ভাবনা, নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীসহ বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সামাজিক সেবার চাহিদা এবং চরাঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। একই সাথে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ নেয় এবং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।

আলোচকরা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ), বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় চরাঞ্চলের জন্য কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং চরাঞ্চলকে আলাদা উন্নয়ন অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গবেষণাভিত্তিক তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা গণমাধ্যমে তুলে ধরলে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আরো কার্যকরভাবে আকর্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মত দেন তারা। এ সময় কর্মশালায় চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘চর উন্নয়ন বোর্ড’ বা ‘চর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠার ওপরও কেউ কেউ গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, সুইস রেড ক্রসের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সঞ্জীব বিশ্বাস সঞ্জয়, বাংলাদেশ সেইফ অ্যাগ্রো ফুড এফোর্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক এবং চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান। তারা বলেন, চরাঞ্চলের জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।