নুরের ওপর হামলা পরিকল্পিত

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নুরের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তার জ্ঞান ফিরেছে, তবে এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থান

ঢাকা মহানগরী

Printed Edition
Nurul-Haque-Nur-02
নুরুল হক নুর | সংগৃহীত

  • নুরুল হকের চোখ, নাক ও মাথার ওপরে আঘাত রয়েছে : ঢামেক পরিচালক
  • লাল জামা পরিহিত হামলাকারী পুলিশ কনস্টেবল : গণ অধিকার
  • বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিন্দা
  • হেলমেট পরার কথা স্বীকার করলেন জাপার মহাসচিব

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে জাপা ও গণ অধিকার পরিষদের সংঘর্ষ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নুরের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তার জ্ঞান ফিরেছে, তবে এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নুরুল হকসহ দলটির নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। রাজনৈতিক দলগুলো নুরুল হকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।

এ দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে লাল টি শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি লাঠি হাতে নুরকে পেটানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে পেটানোর দৃশ্যে দেখা গেছে তিনি পুলিশের একজন কনস্টেবল বলে দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেন, ওই কনস্টেবল পল্টন থানার ওসির গাড়ি চালক। তবে পুলিশের কর্মকর্তারা তার জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই কনস্টেবল নুরকে নয়, আরেকজনকে পিটিয়েছে। গতকাল বিকেলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে বসেন। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে জানা যায়নি।

নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত কাকরাইলের জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে মশাল মিছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

নুরের অবস্থা স্থিতিশীল : গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান বলেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে এখনো শঙ্কামুক্ত বলছেন না চিকিৎসকরা।

ঢামেক পরিচালক আরো বলেন, নুরুল হক নুরের চোখের ওপরে আঘাত রয়েছে, মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। আহত অবস্থায় শুক্রবার রাতে হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখেন। সেখান থেকে তাকে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) রাখা হয়। পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রাতেই পাঁচ বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয় এবং তাদের পরামর্শে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার বর্তমান অবস্থা স্টেবল (স্থিতিশীল) রয়েছে। তবে ৪৮ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলছি না। তার মস্তিষ্কে যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, সেটা ওষুধে ভালো হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি : নুরুল হক নুরের ওপর হামলা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি করেছেন দলটি। দুপুরে ঢামেকে ভর্তি ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে দেখতে এসে এ কথা বলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেন, নুরুল হক নুরের ওপর লাল শার্ট পরিহিত ব্যক্তি হামলা করেছে এমনটি বলা হচ্ছে। কিন্তু সেটি বলে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ওই ব্যক্তি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা সম্রাটের ওপর হামলা করেছে। আর নুরের ওপর হামলা করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। সেনাবাহিনী নুরের বুকে খোঁচা দিয়েছে। বুকে বুট দিয়ে চাপা দিয়েছে। এটি কোন ধরনের বর্বরতা! নুরের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। তাকে দেশের বাইরে নেয়া লাগতে পারে।

রাশেদ আরো বলেন, আমাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কাদের নির্দেশে মাঠে নেমে আমাদের রক্তাক্ত করল? সেনাপ্রধানকে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ডিজিএফআই আওয়ামী লীগের আমলে যা করেছে, ড. ইউনুসের আমলেও তারা একই স্টাইলে কাজ করতে চায়। কিন্তু আমরা তা করতে দিবো না। ডিজিএফআইয়ের সাথে জাতীয় পার্টির দেন-দরবার চলছে। তাদেরকে বিরোধী দল বানাতে চায়। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা চলবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, এই ঘটনায় আপনার কোনো দায় আছে কি না, এই হামলার পেছনে আপনার নির্দেশনা আছে কি না তা আমরা জানতে চাই। দায় না থাকলে আপনার অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। আপনি চুপ থাকলে আমরা ধরে নেবো, এই ঘটনার সাথে আপনিও জড়িত। আপনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। আপনি এই পদে থাকতে পারেন না। আমরা আপনার পদত্যাগ দাবি করছি। লজ্জা থাকলে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে আলোচনা করে এই ঘটনার আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। আমরা সেনা ও পুলিশের নামে মামলা করতে চাই।

আমরা জটিল রাজনীতির মধ্যে : গতকাল নুরুল হক নুরকে ঢামেক হাসপাতালে দেখতে এসে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, পুলিশ ও যৌথবাহিনী নুরুল হক এবং রাশেদ খানসহ গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নিজেদের (গণ অধিকার) ওপর হামলার পর সেই ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিল দলটি। সেখানে কী উদ্দেশ্যে হামলা করা হলো? এই ঘটনার জন্য দায়ী কে তা তদন্ত দরকার।

জোনায়েদ সাকি আরো বলেন, আমরা জটিল রাজনীতির মধ্যে আছি। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চিত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ সময় গণতন্ত্রের জন্য সব রাজনৈতিক দল ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি গণতন্ত্রে ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী : গতকাল দুপুরে হাসপাতালে নুরকে দেখতে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্রে ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রক্রিয়া কার্যকর করার একটি মাত্র পদ্ধতি তা হলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

গতকাল বেলা ১১টায় নুরকে দেখতে ও তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে যান বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নুর একজন জুলাইযোদ্ধা। এ ছাড়া ভিপি নুরকে চেনেন না এমন কেউ নেই। শুক্রবার রাতে সেখানে যারা দায়িত্বে ছিলেন সবাই তাকে চেনে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান ছাত্রশিবির সভাপতি : গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরুল হকের শারীরিক খোঁজ খবর নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম আসেন। পরে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উনি (নুর) চোখ, নাক, মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, উনি আশঙ্কামুক্ত নন। ৪৮ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, এ হামালটি মর্মান্তিক। এ ঘটনায় একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরো জানান, এমন ন্যক্কারজনক হামলা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অশনি সঙ্কেত। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধের অনেক পদক্ষেপ আছে, কিন্তু এ রকম নির্মমভাবে পিটিয়ে নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জি এম কাদেরের বাসার সামনে বিপুল পুলিশ মোতায়েন : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের বাসার সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৩৩ নম্বর সড়কের ৯ /এ বাসার সামনে গতকাল দুপুরের পর থেকে এ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

আইএসপিআরের বক্তব্য : রাজধানীর কাকরাইলে শুক্রবার রাতে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেড়ে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন।

আইএসপিআর জানায়, ঘটনার শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে ও শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করতে এবং দেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার জন্য অনুরোধ জানান। তবে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু নেতা-কর্মী তা উপেক্ষা করে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা সংগঠিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালান এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরো বৃদ্ধি করেন। এ সময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেয়ার চেষ্টা চালান।

এ ছাড়া বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব চেষ্টা তারা অগ্রাহ্য করেন। ফলে জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। উল্লেখ্য, আজকের উদ্ভূত ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব ধরনের ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনয়নে সব ধরনের ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর।

হেলমেট পরার কথা স্বীকার করলেন জাপা মহাসচিব : রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাপার মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী হেলমেট পরার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘হলুদ হেলমেট আমাদের দু-একজন পরেছিল। আমিও পরেছিলাম। আমি অস্বীকার করব না। যখন বড় বড় ইট মারা হচ্ছিল, তখন কিছু হেলমেট পরা হয়েছিল আত্মরক্ষার জন্য।’

প্রসঙ্গত গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। গণ অধিকার পরিষদ বলেছে, মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। তবে জাপা বলেছে, মিছিল নিয়ে এসে জাপার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।