ইতালির স্বপ্নে লিবিয়ায় জিম্মি

ঈদ নেই অর্ধশতাধিক তরুণের পরিবারে

Printed Edition

আরিফিন রিয়াদ গৌরনদী (বরিশাল)

ইতালিতে ভালো চাকরির আশায় জমি বিক্রি আর ধারদেনা করে ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন দালালের হাতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন লিবিয়ার মরুভূমিতে বন্দী। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই দালালচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তত অর্ধশতাধিক যুবক। সামনে ঈদ থাকলেও স্বজনদের ফেরার অপেক্ষায় এসব পরিবারে এখন কান্নার রোল।

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ জন যুবক গত বছর ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। দালালচক্রের মূল হোতা জামাল মোল্লা ও তার ইতালিপ্রবাসী দুই ছেলে জাকির ও সাকিব তাদের বৈধভাবে ইতালিতে নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু সৌদি আরব ও মিসর হয়ে তাদের লিবিয়ায় নিয়ে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করা হয়। মুক্তিপণ দিয়ে এরই মধ্যে ১৫ জন দেশে ফিরলেও এখনো অর্ধশতাধিক যুবক সেখানে জিম্মি বা নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনায় বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা। মামলার প্রধান আসামি জামাল মোল্লা ও তার দুই শ্যালক বাবুল বেপারী ও হাবুল বেপারী বর্তমানে কারাগারে থাকলেও প্রবাসে থাকা দুই ছেলে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সন্তান বা স্বামীকে ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তায় এসব পরিবারের কাছে এবারের ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। হাজার মাইল দূরে লিবিয়ার মরুভূমিতে জিম্মি স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটছে, সেই উদ্বেগ ভুক্তভোগীদের পরিবারে। ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান জানান, তাকে ইতালির কথা বলে লিবিয়া নিয়ে একটি গ্যারেজে আটকে রাখা হয়। সেখানে খাবার না দিয়ে চালানো হতো শারীরিক নির্যাতন। পরে লিবিয়ার পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার পরিবার আরো আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার পর গত জানুয়ারিতে তিনি দেশে ফেরেন। মেহেদী বলেন, অনেকেই এখনো লিবিয়ার বিভিন্ন টর্চার সেলে আটকা। তাদের ঈদ কাটবে অন্ধকারে।

স্বজনদের অভিযোগ, গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনটি স্পিডবোটে করে তাদের ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠানো হলে লিবিয়ার কোস্টগার্ড ১০৮ বাংলাদেশীকে আটক করে। পরে দালাল জাকির মোল্লা তাদের কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আবারো নিজের জিম্মায় নিয়ে যান এবং নতুন করে মুক্তিপণ দাবি করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গত অক্টোবরে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা গৌরনদীতে দালালের বাড়িতে বিক্ষোভও করেন।

গৌরনদী থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, মানব পাচার মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। তিন আসামি জেলে আছেন। আগৈলঝাড়া থানার এসআই মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে মূল হোতারা বিদেশে থাকায় আইনি প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল হচ্ছে।