দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে ১০.২ ডিগ্রি
ঢাকায় তাপমাত্রা নেমেছে ১৪ ডিগ্রি
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের অধিকাংশ জেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বলছে, গতকাল দেশজুড়ে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকায় শীতের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। ভোর ও রাতের দিকে হিমেল বাতাসের সাথে কুয়াশার দাপটে নগরজীবনে ভোগান্তি কিছুটা বেড়েছে। কুয়াশার কারণে সকালের দিকে যান চলাচলেও ধীরগতি দেখা যায়। দুপুরে সামান্য রোদ উঠলেও সূর্যের তাপ খুব একটা অনুভূত হয়নি।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরো কিছুটা কমতে পারে। তবে শৈত্যপ্রবাহের কোনো সম্ভাবনা নেই। দু-একটি স্থানে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে আরো নিচে নামতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের বরাতে রাজশাহী ব্যুরো জানিয়েছে, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত বুধবার ছিল ১৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ ঢাকায় প্রায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমেছে।
ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে-ফরিদপুরে ১৩ দশমিক ২, মাদারীপুরে ১৩, গোপালগঞ্জে ১৩, কিশোরগঞ্জে ১৪, মানিকগঞ্জে ১৩ দশমিক ৫, নারায়ণগঞ্জে ১৪, নরসিংদীতে ১৪ দশমিক ২, মুন্সীগঞ্জে ১২ দশমিক ৫ এবং টাঙ্গাইলে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী বিভাগে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। রাজশাহী ছাড়াও ঈশ্বরদীতে ১১ দশমিক ৮, বগুড়ায় ১১ দশমিক ৭, বদলগাছীতে ১২ দশমিক ২, নওগাঁয় ১২ দশমিক ৫, নাটোরে ১১ দশমিক ৫, পাবনায় ১১ দশমিক ২ এবং সিরাজগঞ্জে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগে তাপমাত্রা আরো কম। রংপুরে ১১ দশমিক ২, দিনাজপুরে ১০ দশমিক ৫, তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ৬, ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ দশমিক ৮, কুড়িগ্রামে ১০ দশমিক ৬, লালমনিরহাটে ১১ দশমিক ৫, গাইবান্ধায় ১১ এবং নীলফামারীতে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগে ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৫ এবং নেত্রকোনায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সিলেট বিভাগে সিলেটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ এবং শ্রীমঙ্গলে ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে কুমিল্লায় ১৪, ফেনীতে ১৪ দশমিক ৮, চাঁদপুরে ১৪ দশমিক ৮, মাইজদীকোর্টে ১৪ দশমিক ৮, কক্সবাজারে ১৪ দশমিক ৫, বান্দরবানে ১৪ দশমিক ৮ এবং টেকনাফে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগে খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ২, যশোরে ১৩ দশমিক ৬, সাতক্ষীরায় ১৩, বাগেরহাটে ১১ দশমিক ৮, ঝিনাইদহে ১১ দশমিক ৮, কুষ্টিয়ায় ১১ দশমিক ৮, মাগুরায় ১১ দশমিক ৮ এবং নড়াইলে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।
বরিশাল বিভাগে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৮, পটুয়াখালীতে ১৩ দশমিক ৫, ভোলায় ১৩ দশমিক ৫, ঝালকাঠিতে ১৩ দশমিক ৫ এবং পিরোজপুরে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরো জানিয়েছে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শীত আরো বাড়তে পারে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ। জীবিকার তাগিদে ভোরেই কুয়াশা মাথায় নিয়ে কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষি শ্রমিকদের। শীতের তীব্রতা প্রকট হওয়ায় গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।