কৈজানি নদীতে ব্রিজের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ
Printed Edition
আবু বকর ছিদ্দিক কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও মদন উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে খরস্রোতা কৈজানি নদী। স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও এই নদীতে একটি ব্রিজ নির্মিত হয়নি। ফলে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। একটি ব্রিজের অভাবে থমকে আছে এই অঞ্চলের জনপদ, বাড়ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পশ্চিমপাড়ে কেন্দুয়ার কান্দিউড়া ইউনিয়ন এবং পূর্বপাড়ে মদনের নায়েকপুর ইউনিয়ন। পশ্চিমপাড়ের তাম্বুলিপাড়া এলাকাটি একটি ‘মিনি পর্যটন কেন্দ্র’ হওয়ায় প্রতিদিন বিকেলে এখানে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। এ ছাড়া কাছেই কেন্দুয়া উপজেলা সদর হওয়ায় এখানে গুরুত্বপূর্ণ স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে। কৃষি ও মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই দুই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রও কেন্দুয়া।
প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, মৎস্যজীবী ও কৃষকসহ শত শত মানুষ তাম্বুলিপাড়া ঘাট দিয়ে পারাপার হন। মদনের নায়েকপুরসহ পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য পশ্চিমাঞ্চলে যাওয়ার এটিই একমাত্র সহজ পথ। একইভাবে কান্দিউড়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মদন ও পূর্বাঞ্চলে যেতে এই ঘাটের কোনো বিকল্প নেই। জীবনের তাগিদে ঝুঁঁকি নিয়ে নৌকায় উঠতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, দেশ স্বাধীনের এত বছর হলেও আমাদের এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নদী পার হতে গিয়ে দুর্ভোগ কপালের লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব আলম বলেন, দুই উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এখানে একটি ব্রিজ হলে নায়েকপুর, ফতেপুর ও তিয়শ্রী ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার কমে আসবে। এতে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।