যুদ্ধজনিত পরিস্থিতি

অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলায় স্বল্প সুদে বিদেশী ঋণ নেবে সরকার

এডিবি থেকে বাজেট সহায়তা হিসেবে মিলতে পারে ৬০ কোটি ডলার

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজনিত পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলায় স্বল্প সুদে বিদেশী ঋণ নেয়ার পথে হাঁটছে সরকার। তেলের মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে ভতুর্কি মোকাবেলায় দুই ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে যাচ্ছে সরকার। বিশ^বাজারে জ¦ালানি তেলের দর বাড়লেও সরকার আপাতত দেশের বাজারে বাড়াবে না। ব্যারেল প্রতি তেলের দর ১১০ ডলার ছাড়িয়ে না যাওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান দামেই তেল বিক্রি করা হবে। তবে তেলের ভর্তুকি মোকাবেলায় দুটি পন্থা অবলম্বন করা হবে। এর একটি হচ্ছে যতটা সম্ভব কৃচ্ছ্রতা অবলম্বন করা। এরই অংশ হিসেবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন শপিংমল ও দোকানপাট খোলা ও বন্ধের সময় বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে।

অন্যটি হচ্ছে- তেল কেনার জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পেতে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া। এ ক্ষেত্রে ম্যানিলা ভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক এডিবি ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংককে (আইএসডিবি) বেশি প্রাধ্যান্য দেয়া হচ্ছে। আইএসডিবির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) কাছে তেল কেনার জন্য ঋণের আবেদন করছে সরকার। অর্থমন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাপ সত্ত্বেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আপাতত দেশে তেলের দাম বাড়ানো হবে না। ফলে প্রতিদিন সরকারকে ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে ১৩৭ কোটি টাকা। এর পরও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় এনে তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। কারণ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে। জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা জানুয়ারি মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

এই পরিস্থিতিতে যদি তেলের দাম সমন্বয় বা বাড়ানো হয় তবে এর প্রভাবে পণ্য ও পরিবহনসহ সব কিছুরই দাম বেড়ে যাবে। এতে করে মূল্যস্ফীতি খড়গ আরো বাড়বে। সেই সাথে বাড়বে জনদুর্ভোগও। তাই তেলের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে না সরকার।

এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে বলেছেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সামলাতে সরকার সহজ শর্তের ঋণের উৎস খুঁজছে। দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম না বাড়িয়েই সরবরাহ কীভাবে স্বাভাবিক রাখা যায় সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আইটিএফসি, এডিবির কাছে আবেদন করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শিগগরিই এই দুই সংস্থার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে। বিশেষ করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আমাদের বাজেট সহায়তা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আশা করা যাচ্ছে সংস্থাটির কাছ থেকে ৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়া যাবে।

এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যেসব দেশের জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ রয়েছে, তাদের সবার সাথেই সরকার আলোচনা করছে এবং সহযোগিতা চাইছে।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলছেন, বিদেশী সহায়তা কাক্সিক্ষত মাত্রায় পাওয়া না গেলে সে ক্ষেত্রে সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড থেকে অর্থ কর্জ নেবে। তবে কোনো অবস্থায়ই টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেয়া হবে না।