টার্গেট ধনাঢ্য ও প্রবাসীরা

সিলেটে সক্রিয় হানি ট্র্যাপ চক্র, গ্রেফতার ৬

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

সিলেট নগরীতে সক্রিয় রয়েছে ভয়ঙ্কর একটি প্রতারক চক্র, যারা নারীদের ব্যবহার করে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা ‘ভালোবাসার ফাঁদ’ পেতে উঠতি বয়সী তরুণ, ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রবাসীদের টার্গেট করছে। এই ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন অনেকে। লজ্জায় পরিবার বা পুলিশের কাছে মুখ খোলেননি বেশির ভাগ ভুক্তভোগী। তবে সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে চক্রের ছয়জন সদস্য গ্রেফতার হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তরুণী সেজে টার্গেট ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, ছবি আদান-প্রদান, ভিডিওকলে ঘনিষ্ঠ আলাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে একসময় ডাকা হয় নিজেদের আস্তানায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, সেখানে পৌঁছানোর পরই বেরিয়ে আসে আসল চেহারা। জিম্মি করে মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়, ভিডিও ক্যামেরা চালু রেখে ভিকটিমকে বিবস্ত্র করা হয় এবং ওই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আনতে বাধ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়। সম্মান রক্ষার্থে টাকা দিয়েই রেহাই পান বেশির ভাগ ভুক্তভোগী।

চক্রের অপকর্ম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে গত এপ্রিলে, দুই ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে। পুলিশ জানায়, গত ৯ এপ্রিল রাতে চক্রের সদস্য মো: আব্দুল জলিল সিলেট মহানগরের মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে রিফাত ও মাহফুজ নামে দুই যুবককে প্রতারণার মাধ্যমে সদস্য মো: জায়েদ আহমদ চালিত সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় শাহজালাল উপশহরের যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩ নম্বর বাসার পঞ্চমতলায় নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের জিম্মি করা হয়। ওই বাসায় আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন জেসমিন আক্তার এবং চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহাসহ আরো কয়েকজন।

সবাই মিলে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায়, অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসান রিফাত আত্মীয়দের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেন। এ সময় দুই যুবকের পরিবার সন্দেহবশত কোতোয়ালি মডেল থানায় জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বাসা থেকে ২ নারী ও ২ পুরুষকে আটক করে এবং পরবর্তীতে চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া গত ৫ মে র‌্যাব-৯ আরো একজনকে গ্রেফতার করে। এ পর্যন্ত মোট গ্রেফতার হয়েছে ৬ জন- সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ৫ জন ও র‌্যাব-৯ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে নিজস্ব আস্তানা গড়ে তোলা এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে এখন কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। এসএমপির মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, সিলেটে হানি ট্র্যাপের একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ এসব চক্রের শেকড়সহ উপড়ে ফেলতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগীরা প্রায়ই লজ্জায় পুলিশের কাছে আসতে চান না- তবে যারাই অভিযোগ নিয়ে আসবেন, তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।