নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বালু উত্তোলন হুমকির মুখে বাঁধ ও ব্রিজ

Printed Edition
bangla-1
কমলগঞ্জে ধলাই নদী রক্ষাবাঁধে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ এবং বালু উত্তোলন একই সাথে চলছে : নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে বালু উত্তোলন চলছেই। কোনো ক্রমেই এটি বন্ধ হচ্ছে না। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বাঁধ ও ব্রিজ। ক্ষতির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের বাসিন্দরা। জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসন জানিয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ধলাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধে জিওব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। এর অন্যপাশে রহিমপুর ইউনিয়নের মৃর্ত্তিঙ্গা চা বাগানের স্টিল ব্রিজের সন্নিকটে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ব্রিজের ক্ষতির শঙ্কায় স্থানীয়রা মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরপরও এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে ধর্মপুর ও রামচন্দ্রপুর এলাকার ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, দু’টি ব্রিজ ও পরিবেশ-প্রতিবেশ।

সরেজমিন দেখা যায়, রহিমপুর ইউনিয়নের মৃর্ত্তিঙ্গা স্টিল ব্রিজের সন্নিকটে ধলাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে জিওব্যাগ স্থাপন কার্যক্রম চলছে। এর একই স্থানে নদীর মাঝখান থেকে ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন করে অন্য পাশে ফেলা হচ্ছে। বিগত প্রায় দুই মাস ধরে ব্রিজের সন্নিকট থেকে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় এক ইজারা গ্রহীতা। এতে স্টিল ব্রিজ এবং নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে জিওব্যাগ স্থাপন কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়ছে। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও দুইটি ব্রিজের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয়রা গত নভেম্বর মাসে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে গণদরখাস্ত দিয়েছে।

নদীভাঙন আশঙ্কায় হতাশাগ্রস্ত এলাকার মোস্তফা মিয়া ও আব্দুল খালিক বলেন, ধর্মপুর ও রামচন্দ্রপুরে মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে ধলাই নদীর ওপর দুইটি স্টিলের ব্রিজ রয়েছে। কয়েক বছর আগে মৃর্ত্তিঙ্গা ব্রিজের উত্তর পাশ্বে প্রায় ২০০ মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আশপাশ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করছে। কিন্তু একই সময় পার্শ্ববর্তী স্থান এবং ব্রিজের সন্নিকট থেকে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করায় নদীর বাঁধ ও দু’টি ব্রিজ হুমকির মুখে পড়ছে।

মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অমান্য করে বালু উত্তোলনের ফলে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশের সম্ভাবনাময়ী সম্পদ। স্থানীয়রা জানান, বালু মহাল নয় এমন কিছু জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনজীবনে দেখা দিয়েছে হুমকি। তবে বালু উত্তোলনকারী ইজারাদার দাবি করছেন ইজারা নিয়ে তারা বৈধভাবেই বালু উত্তোলন করছেন।

অভিযুক্ত বালু মহাল ইজারাদার খোরশেদ আলম বলেন, আমার ইজারার স্থান হচ্ছে ব্রিজের কাছাকাছি ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ এলাকায়। তাই ব্রিজ রক্ষা করেই আমি বালু উত্তোলন করছি।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান, বেড়িবাঁধ ও ব্রিজের পাশ থেকে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবে না।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোসা: শাহীনা আক্তার বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। ইউএনওকে বলে দিচ্ছি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ব্রিজের কাছ থেকে কোনো অবস্থাতেই বালু উত্তোলন করা যাবে না। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।