২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই অ্যাওয়ার্ড পেলেন কনকচাঁপা

Printed Edition
back-4
বগুড়ায় চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন : নয়া দিগন্ত

ইমরান পরশ

বগুড়ার প্রাচীন পুণ্ড্র্রনগরের ঐতিহ্য ও আধুনিক সঙ্গীতের সুরের মূর্ছনায় সম্পন্ন হলো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সঙ্গীত উৎসব ‘২০তম টিএমএসএস-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’। বগুড়ার ‘মম ইন হোটেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর সবুজ চত্বরে বিশাল মঞ্চে বসেছিল দেশের সঙ্গীত তারকা ও মহাতারকাদের এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলা।

ঢাকা থেকে প্রায় আড়াই শ শিল্পী ও সংবাদকর্মীর উপস্থিতিতে বর্ণিল এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, “বগুড়ার সন্তান হিসেবে এই আয়োজন নিয়ে আমি গর্বিত। সঙ্গীতের এই বিশাল যজ্ঞ সার্থক করার জন্য শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই।’ অনুষ্ঠানের এক চমকপ্রদ মুহূর্তে ফরিদুর রেজা সাগরের আমন্ত্রণে মন্ত্রী স্বয়ং ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানের দুই লাইন গেয়ে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ড. হোসনে আরা বেগম এই আয়োজনের সাথে থাকতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এবারের আসরে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয় বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপাকে। চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজের উপস্থাপনায় শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও চেক তুলে দেন মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালকরা। সম্মাননা গ্রহণের পর এক আবেগঘন মুহূর্তে কনকচাঁপা তার ক্রেস্টটি সঙ্গীতগুরু ও জীবনসঙ্গী মঈনুল হোসেনের হাতে তুলে দেন। এ ছাড়া লোকসঙ্গীতের কিংবদন্তি কাঙ্গালিনী সুফিয়াকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার উপস্থিতি ছিল মূল আকর্ষণ। সাবিনা ইয়াসমিনের ভাওয়াইয়া এবং রুনা লায়লার জনপ্রিয় গানে পুরো মম ইন চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে। চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও আদর আজাদের ‘বেহুলা-লক্ষ্মীন্দর’ গীতিনৃত্য দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।

এবারের আসরে বিজয়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- শ্রেষ্ঠ আধুনিক গানে লিজা, সুরকার বাপ্পা মজুমদার, গীতিকার তারেক আনন্দ ও শাহনাজ কাজী। শ্রেষ্ঠ দ্বৈত সঙ্গীতে ইমরান ও সিঁথি সাহা, লোকসঙ্গীতে বিউটি এবং ছায়াছবির গানে আতিয়া আনিসা ও সুরকার শওকত আলী ইমন পুরস্কৃত হন। শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড হিসেবে মেট্রিক্যাল এবং অডিও কোম্পানি হিসেবে বেঙ্গল মিউজিক অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। নজরুল সঙ্গীতে শহিদ কবির পলাশ এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতে স্বাতী সরকার শ্রেষ্ঠ শিল্পী নির্বাচিত হন।

মম ইন-এর মনোরম পরিবেশে সঙ্গীতের এই মহাযজ্ঞ গভীর রাতে রুনা লায়লার ‘সাধের লাউ’ গানের তালে সমাপ্ত হয়, যা উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে যায়।