ঈদযাত্রা নির্বিঘেœ ডিএমপির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
- চলবে না ফিটনেসবিহীন যানবাহন
- কয়েকটি সড়ক থাকবে ওয়ানওয়ে
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো: সরওয়ার বলেছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, এসবি এবং র্যাব মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন বস্তু তল্লাশিতে ডগ স্কোয়াড এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে সোয়াট টিম প্রস্তুত থাকবে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে মাউন্টেড পুলিশও (অশ্বারোহী) দায়িত্ব পালন করবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হলো ফিটনেসবিহীন ‘লক্কড়ঝক্কড়’ বাস। এই বাসগুলো হাইওয়েতে নষ্ট হয়ে গেলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসব বাস যাতে রাস্তায় নামতে না পারে সে জন্য ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। বিআরটিএ এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, আসন্ন ঈদে ঢাকার যাত্রা সহজ করতে বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিআরটি লেন এবং আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়া রোড পর্যন্ত ‘ওয়ানওয়ে’ (একমুখী) যানচলাচল চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বাইপাস রোড খোলা রাখার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা সহজ করতে এবং সড়কে যানজটের চাপ কমাতে আগামী ১৮ মার্চ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। মূলত যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাধারণত ঈদের আগে ছুটি কম থাকলে এক দিনে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ে। যদি দুই দিনের ছুটি থাকে, তবে এক দিনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ লোক যাতায়াত করে। কিন্তু ছুটি চার থেকে পাঁচ দিন হলে এই চাপ ভাগ হয়ে যায় এবং প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বে। এর ফলে বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে দ্রুত ফিরে এসে আবার নতুন যাত্রী নিতে পারবে, যা ঈদযাত্রাকে অনেক বেশি সহজতর করবে।
একসাথে বিপুল জনস্রোত সামাল দিতে তৈরী পোশাক খাতের (গার্মেন্ট) মালিকদের প্রতি ধাপে ধাপে ছুটি দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৬ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে প্রতিদিন ২০ শতাংশ হারে শ্রমিকদের ছুটি দিলে পরিবহন সঙ্কট ও যানজট উভয়ই নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে ডিএমপি মনে করছে। তিনি বলেন, বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের সহায়তায় ‘হেল্পডেস্ক’ স্থাপনের করতে হবে। যেখানে বাসের ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে দেয়া এবং কোনো বাসের শিডিউল বিপর্যয় হলে তা দ্রুত যাত্রীদের জানানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া টার্মিনালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সিটি করপোরেশনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মালিক ও শ্রমিক সমিতিকে অনুরোধ করেছেন যাতে চালকরা একটানা ৪-৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালান এবং যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী না তোলেন।
বিশেষ করে আবদুল্লাহপুর, গাবতলী ও সায়েদাবাদে মূল সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন এবং মলম পার্টি বা ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।
মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য সামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল আলম ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন প্রমুখ।