ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে যশোরে বিএনপিতে কোন্দল, সুবিধায় জামায়াত

Printed Edition

এম আইউব, যশোর অফিস

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। এ কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। ভোটারদের মধ্যেও নানা ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এই সুযোগে জামায়াত প্রার্থীদের অবস্থান শক্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোরের ছয়টি আসনে সংগঠনের প্রার্থী ঘোষণা করে। তারপর থেকেই জামায়াত প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করা শুরু করেন। মানুষের সুবিধা-অসুবিধায় ছুটে যাচ্ছেন তাদের পাশে। এ কারণে তাদের প্রতি ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।

যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে বাদ দিয়ে শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে মনোনয়ন দেয়ায় ওই আসনের একটি অংশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। এদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমানের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে ভোটারদের কাছে।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর উপজেলা ও সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে প্রথমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য টিএস আইয়ুব। পরে সেটি পরিবর্তন করে অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ফলে, টিএস আইয়ুব অংশ এক প্রকার নিশ্চুপ রয়েছে। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদ ইকবাল হোসেনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়া হলেও পরে বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ কারণে রাজপথে নেমেছে ইকবালের অনুসারীরা। ভোটারদের ধারণা, এর ফলে বিএনপির ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে প্রথমে মাঠে নামানো হয়। তিনি বেশকিছু দিন গণসংযোগও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দেয়ায় শ্রাবণের পক্ষের সমর্থকরা ভোটের মাঠে কোন দিকে অবস্থান নিবেন তা নিয়ে চলছে গুঞ্জন। এদিকে জামায়াতের ক্লিন ইমেজের প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার হোসেন নিজেকে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত রেখেছেন।

এসব বিষয়ে যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস বলেন, জামায়াত জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও সংগঠনের নিজস্ব প্রস্তুতি সব আসনেই রয়েছে। জামায়াতেরর প্রার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে থাকায় সাংগঠনিকভাবে অনেক এগিয়ে গেছে। তবুও জোটের স্বার্থে আমরা সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত।