জিকোকে কেন বাদ দেয়া হলো
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
হতে পারে ভিয়েতনাম এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুই ম্যাচই কোচ হাভিয়ার কাবরেরার বাংলাদেশ অধ্যায়ের শেষ ম্যাচ। আবার হয়তো বাফুফে এই স্প্যানিশ কোচের সাথে চুক্তি নবায়নও করতে পারে। সবই বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হবে। আর এই সিদ্ধান্ত হবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচের পর। তবে এবারও গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে না ডেকে কোচ হাভিয়ার কাবরেরা এবং তার গোলরক্ষক কোচ যে অন্যায় করেছেন এর দায়টা কে নেবেন। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেলেন চার গোলরক্ষক। সেখানে নেই জিকোর মতো পরীক্ষিত কিপার।
কোচ কাবরেরার কোচিং বহরে যে গোলরক্ষক কোচ তার পছন্দের উপরই হেড কোচ সবুজ সঙ্কেত দেন। এখন কথা হলো এই গোলরক্ষক কোচ কি খেলা দেখেছেন এবারের লিগের। নাকি মুখস্ত হিসেবে অন্যের কথা শুনেই টিক চিহ্ন দিয়েছেন তিনি। তা না হলে কোনো যুক্তিতে বাদ যাবেন বাজপাখি খ্যাত এই কিপার জিকো।
এবারের বাংলাদেশ ফুটবল লিগে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে বসুন্ধরা কিংস। ফর্টিস এফসিকে হারিয়ে তারা যে সুবিধাজনক স্থানে চলে গেছে তা ধরে রাখতে পারলে হয়তো ফের লিগ শিরোপা ফিরে পাবে দেশ সেরা ক্লাবটি। বসন্ধরা কিংসকে এই শীর্ষে নেয়ার ক্ষেত্রে পোস্টের নিচের কারিগর এই জিকো। লিগের অধিকাংশ ম্যাচেই তিনি খেলেছেন। অথচ তিনি ডাক পেলেন না। ডাক পেলেন দলটির রিজার্ভ বেঞ্চের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। শ্রাবণও ভালো কিপার। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ আসরে ভিয়েতনামের মাঠে তিনি শারীরিক উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে একের পর এক গোল ঠেকিয়েছেন তাতে এর পরপরই বাংলাদেশ দলে জায়গা পাওয়ার কথা ছিল শ্রাবণের। কিন্তু হাভিয়ার কাবরেরার গোলরক্ষক কোচ সে পথে হাঁটেননি। এমনকি অনূর্ধ্ব-২৩ দল থেকেও যখন তথ্য দেয়া হলো শ্রাবণ সিনিয়র জাতীয় দলের পোস্টের নীচে দাঁড়ানোর মতো পারফরম্যান্স করছে তখনো তা উপেক্ষা করা হয়। কাবরেরাদের আস্থা রাখা সেই মিতুল মারমার ওপর। পরবর্তীতে মিতুল মারমার পারফরম্যান্স সবারই জানা। অথচ তখন ইনফর্ম শ্রাবণ তখন উপেক্ষিত হয়ে সাইড বেঞ্চে।
এবার লিগ ও ফেডারেশন কাপ মিলে ভালো খেলছেন ঢাকা আবাহনীর গোলরক্ষম মিতুল মারমা। তাকে ডাকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু যে গোলরক্ষক বসুন্ধরা কিংসের রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন চলতি সিজনের অধিকাংশ সময়ে সেই শ্রাবণকে কেন ডাকা হলো। যেখানে জিকো নিয়মিত খেলেছেন। দুর্দান্ত পারফর্ম করে কামব্যাক করেছেন জিকো। তাকে না ডেকে গুরুতর অন্যায়ই করেছেন জাতীয় দলের গোলরক্ষক কোচ তথা হেড কোচ কাবরেরা।
২০২৩ মালে এএফসি কাপ খেলে মালদ্বীপ থেকে ফেরার সময় বিমানবন্দরে এক দুঃখজনক ঘটনার জন্ম দিয়ে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন জিকো। তার ক্লাব বসুন্ধরা কিংসও তাকে শাস্তি দেয়। সব ধাক্কা সামলিয়ে জিকো আবার বসুন্ধরা কিংসের এক নাম্বার কিপার। অথচ ক্লাব জার্সিতে ভালো খেলেও এবারো লাল-সবুজ জার্সিতে নিজেকে ফের প্রমাণের সুযোগ পেলেন না। অভিজ্ঞ এই কিপারকে নেয়া হলো না জাতীয় দলের ক্যাম্পে। যা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একজন খেলোয়াড় যদি সেরা পারফর্ম করেও জাতীয় দলে ডাক না পান তাহলে এতে তার মনের উপর ভীষন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, আগে দেখতে হবে জাতীয় দলের গোলরক্ষক কোচ কে। তিনি খেলা ঠিকমতো দেখেছেন কি না- এ নিয়েই তো সন্দেহ।
বাংলাদেশের ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি কাবরেরা। এবার এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয় হয়ে কোয়ালিফাই করার দারুণ সুযোগ ছিল। হামজা চৌধুরী, শমিত শোমদের মতো ফুটবলারদের নিয়েও ব্যর্থ বাংলাদেশ দল। অর্জন হংকং ও ভারতের মাঠে ড্র করার পর হোমে ভারতের বিপক্ষে জয়। কাবরেরা অবশ্য এটিকেই বড় করে দেখছেন। আসলে বাংলাদেশ যে সুবর্ণ সুযোগ হারাল এর কী হবে। এর দায়তো কোচ কাবরেরাকেই নিতে হবে।
জাতীয় দলে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই স্পেশালিস্ট স্ট্রাইকারদের পথ রুদ্ধ করেছেন কাবরেরা। নাবিব নেওয়াজ জীবনকে জাতীয় দলেই আর ডাকেননি। এখন জিকোকে নিয়ে তামাশা শুরু করেছেন। বিষয়গুলো বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটিকে ভাবতেই হবে।
এ দিকে গতকাল ক্যাম্পে উঠেছেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা। আজ থেকে বসুন্ধরা কিংস মাঠে তাদের অনুশীলন। আর বাংলাদেশ দল ২১ তারিখের বদলে ২০ তারিখে ভিয়েতনাম যাচ্ছে। আর হামজা ২১ তারিখের বদলে ২২ তারিখে ভিয়েতনাম যাবে।