যশোরে ১৫ বছর জাল জন্মসনদে চাকরি করছেন ২ গ্রাম পুলিশ
Printed Edition
এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
যশোরের চৌগাছা উপজেলার ২ নম্বর পাশাপোল ইউনিয়নে জাল জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে প্রায় ১৫ বছর ধরে চাকরি করছেন দুই গ্রাম পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান ও সচিব ইবাদত হোসেনকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে তারা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় সমালোচনার ঝড় পড়ে।
মঙ্গলবার একই এলাকার সাইফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগপত্রে বয়সসহ অন্যান্য তথ্য জালিয়াতি করা হয়েছে। তিনি রফিকুল ইসলাম ও মকবুল হোসেনের চাকরি বাতিল এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জানা গেছে, ২০১১ সালে পাশাপোল ইউনিয়নে অস্থায়ী ভিত্তিতে এক নারী ও চার পুরুষসহ পাঁচজন গ্রাম পুলিশ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপজেলা গ্রাম পুলিশ নিয়োগ কমিটির ১৫ ডিসেম্বর ২০১১ সালের সভা ও ২২ জানুয়ারি ২০১২ তারিখের নির্দেশনার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যকর হয়।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাছ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ, ভোটার আইডি কার্ড ও অষ্টম শ্রেণী পাসের সনদ গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রফিকুল ইসলাম ও মকবুল হোসেন নির্ধারিত বয়স পূরণ না করায় জাল সনদ ব্যবহার করেছেন। স্থানীয়রা দাবি করেন, তৎকালীন আ’লীগ চেয়ারম্যান ও সচিব এ কাজে জড়িত ছিলেন। নিয়োগপত্রে রফিকুলের জন্মতারিখ দেখানো হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৬, অথচ ভোটার কার্ডে ১ জানুয়ারি ১৯৭৯ উল্লেখ আছে। মকবুলের নিয়োগপত্রে জন্মতারিখ ২০ অক্টোবর ১৯৮৪, ভোটার কার্ডে ১২ জুন ১৯৬৩। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। সে সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের কারণে কেউ কথা বলতে পারেনি।
রফিকুল ও মকবুল জানান, চেয়ারম্যান তাদের কাগজপত্র জমা দিতে বলেছেন, যা জমা দেয়ার পর চাকরি হয়েছে। কাগজে কী লেখা ছিল, তা তারা জানেন না। তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান বর্তমানে পলাতক। এ ঘটনায় সম্প্রতি এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চৌগাছার প্রায় সব ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতি ঘটেছে। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। চৌগাছা ইউএনও তানভীর আহমদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।