ঘন কুয়াশায় দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ

Printed Edition
bangla-1
সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি :নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ঘন কুয়াশায় ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে নৌবন্দর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। নিরাপত্তাজনিত কারণে গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এদিকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনে আমরাজুড়ি ফেরিঘাটের ফেরি চলাচল গত দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে পিরোজপুর-স্বরূপকাঠি সড়কসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। ঘোষণার পরপরই বরিশাল নৌবন্দরে নোঙর করা লঞ্চগুলো থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয়। এ সময় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া ভাড়া ফেরত দেয়। বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এম খান-৭ লঞ্চের সুপারভাইজার মো: শুভ জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় কর্তৃপক্ষ লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাতে হঠাৎ করে এ সিদ্ধান্ত নেয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক যাত্রী প্রয়োজনীয় মালপত্রসহ লঞ্চে ওঠার পর নামতে বাধ্য হন। কেউ কেউ দূর-দূরান্ত থেকে এসে লঞ্চ বন্ধের খবরে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন।

বরিশাল নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক সোলায়মান বলেন, ‘নৌযান, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সন্ধ্যার পর থেকে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী লঞ্চ চলাচল পুনরায় শুরু হবে।’

এদিকে গতকাল সোমবার সকাল থেকেও বরিশালে ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে। সূর্যের দেখা মেলেনি এবং নদীজুড়ে দৃশ্যমানতা কম থাকায় নৌ চলাচলে ঝুঁকি রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার মধ্যে দু’টি লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন যাত্রী নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, গত রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা নদীর তীরে একের পর এক ভাঙন শুরু হয়। নদীভাঙনে ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে দেবে যায়, পন্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের দোকানপাট, গাছপালা ও স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের পারাপার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।

ভাঙনের কারণে আমরাজুড়ি বাজারের একাংশ, বেশ কয়েকটি দোকান, বসতঘর, একটি মসজিদ এবং কাউখালী-শেখেরহাট সংযোগ সড়কের অংশবিশেষ নদীতে তলিয়ে গেছে। যে কারণে বানারীপাড়া, নেছারাবাদ, বরিশাল ও কাউখালীর সাথে ঘড়িয়ার পার হয়ে চলাচলকারী যানবাহনের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, আকস্মিক নদীভাঙনে ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক ও গ্যাংওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি মেরামত কাজ শেষ হলে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হবে।