মিরসরাইয়ে হামলায় আহত ছাত্রদল নেতার মৃত্যুতে সড়ক অবরোধ
Printed Edition
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে গরু আনার ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় নামে এক ছাত্রদল নেতা মারা গেছেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচা নাজমুল হোসেন। হৃদয় করেরহাট ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এ দিকে ছাত্রদল নেতা হৃদয় মারা যাওয়ার খবরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে উপজেলার কয়লা বাজার। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা কয়লা এলাকায় বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। হামলা চালানো হয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলালের বাড়িতে।
জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে কয়লা বাজারে অবৈধভাবে আসা একটি গরুর ট্রাক আটক করে স্থানীয়রা। গরুগুলো বদ্ধভবানী এলাকার বিএনপি নেতা মো: টিপু ও আবদুর রহিমের সেল্টারে নিয়ে আসছিল টিপুর ভাই সুমন। তখন ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় যুবদল নেতা সবুজ ও তার সহযোগীরা। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সুমনকে মারধর করে সবুজ এবং তার লোকজন। তখন আবদুর রহিম কয়লা এলাকার বিএনপি নেতা আবদুল আলিমকে ফোন দিয়ে জানান কয়লায় তাদের গরুর গাড়ি আটকে থাকার বিষয়টি দেখার জন্য। তিনি ব্যস্ততার কারণে যেতে পারবেন না বলে জানালে তার ছেলেকে হলেও পাঠাতে বলেন। তখন আবদুল আলিম ছেলে শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় ও আনোয়ার হোসেনকে নামের একজনকে বিষয়টি দেখার জন্য কয়লা বাজারে পাঠান। ১৫ মিনিট পর তার কাছে খবর আসে ছেলে হৃদয় ও আনোয়ারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এরপর তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহত শাহরিয়ার হৃদয়ের বাবা আবদুল আলিম বলেন, গরু ব্যবসায়ী টিপু ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ওই দিন রাতে টিপুর সহযোগী আবদুর রহিম আমাকে বারবার ফোন দিয়ে তাদের গরুর ট্রাককে আটক করার ঘটনাটি দেখতে বলে। আমি সারাদিন বাইরে থাকায় ক্লান্ত ছিলাম। এরপর আনোয়ারসহ আমার ছেলেকে কয়লা বাজারে ঘটনাটি জানতে পাঠাই। এর ১৫ মিনিট পর খবর আসে আমার ছেলের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি ছুটে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পাঁচ দিন প্রাণপণ চেষ্টা করেও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।
এ বিষয়ে মো: টিপু অবৈধ গরু ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওই দিন রাতে আমার ভাই সুমনের মাথা ফাটিয়ে দেয় সবুজ ও তার লোকজন। হৃদয়ের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার ওপর কারা হামলা করেছে জানি না।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হক বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজন হাসপাতালে মারা গেছে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।