পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরও আসামিরা অনুপস্থিত, পরবর্তী শুনানি ২৫ জুন
ট্রাইব্যুনালের অ্যামিকাস কিউরি ও হাসিনার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ
Printed Edition
আদালত অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা শাকিল আলম বুলবুলের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একজন সিনিয়র আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। গতকালও শেখ হাসিনা হাজির না হওয়ায় শুনানির জন্য ২৫ জুন ট্রাইব্যুনাল নতুন দিন ধার্য করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালত অবমাননার অভিযোগে শেখ হাসিনার পক্ষে শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটুকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স কাউন্সেল) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। আর অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে মনোনীত করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের বলেন, বিচারের স্বচ্ছতা, আসামিদের আবার সুযোগ দেয়া ও আইনের সঠিক ব্যাখ্যা গ্রহণের জন্য ট্রাইব্যুনাল আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) একটি আদেশ দিয়েছেন। সেটি হলো, এই মামলায় মতামত গ্রহণের জন্য ট্রাইব্যুনালকে সহায়তা দিতে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটুকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স কাউন্সেল) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
প্রসিকিউটর গাজী তামীম আরো বলেন, প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে জবাব দেননি। স্বচ্ছতার জন্য তাদের হাজির হতে ট্রাইব্যুনাল দু’টি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আজ এ বিষয়ে শুনানি বা আদেশের দিন ধার্য ছিল। দুই আসামির কেউ আজও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হননি। ট্রাইব্যুনাল আজকেই আদেশ দিতে পারতেন, আইনও সেটি কাভার করে; কিন্তু আসামিদের আবার সুযোগ দেয়ার জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় এই দুই আসামির কিছু কথোপকথন তদন্ত সংস্থার দৃষ্টিগোচর হয়।
সেখানে এক আসামি অপরজনকে বলছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি।’ শুধু তাই নয়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও হুমকিস্বরূপ দেয়া কথাবার্তা ওই কথোপকথনে প্রকাশিত হয়।
পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ওই কথপোকথনের ফরেনসিক পরীক্ষা করে সেটি হাসিনার বলে সত্যতা পায়। পরবর্তী সময়ে এই বক্তব্যের বিষয়ে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয় ট্রাইব্যুনালে।
প্রসিকিউশনের করা সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি গ্রহণ করে ১৫ মে’র মধ্যে তাদের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন; কিন্তু ১৫ মে জবাব দাখিল না করায় তাদেরকে ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তবে ২৫ মে তারা হাজির না থাকায় প্রসিকিউশনের আবেদনে শেখ হাসিনাসহ দু’জনকে আদালত অবমাননার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে হাজির হওয়ার জন্য বহুল প্রচারিত দু’টি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর নির্দেশক্রমে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এ এস এম রুহুল ইমরান স্বাক্ষরিত নোটিশটি ২৬ মে দু’টি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
নোটিশে ৩ জুন সকাল ১০টায় ট্রাইব্যুনালে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব বা বক্তব্য দাখিল করতে বলা হয়। অন্যথায় তাদের অনুপস্থিতিতে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার কার্য সম্পন্ন হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। তবে ৩ জুনও আদালত অবমাননার অভিযুক্তরা হাজির না হওয়ায় ট্র্যাইব্যুনালের পরবর্তী আদেশের জন্য গতকাল ১৯ জুন দিন ধার্য ছিল।