দখলদারদের কবলে গবাখাল জলাবদ্ধতায় নাকাল জামালপুর

Printed Edition
bangla-1
ভরাট, অবৈধ দখল ও ফেলনা বর্জ্যে অস্তিত্ব সঙ্কটে গবাখাল : নয়া দিগন্ত

খাদেমুল বাবুল জামালপুর

জামালপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষার কথা চিন্তা করে প্রায় ৬৫ বছর আগে খনন করা হয়েছিল ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ গবাখাল। স্থানীয়ভাবে ‘গবাখালী’ নামে পরিচিত এই খালটি এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। দখলবাজদের থাবা আর ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া এই খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে ঐতিহ্যবাহী জামালপুর শহর।

শহরবাসীর কল্যাণে ১৯৬০-৬১ সালের দিকে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে শেখেরভিটা থেকে কেন্দুয়া কালবাড়ি বাজার সংলগ্ন ঝিনাই নদী পর্যন্ত ৩০ ফুট প্রশস্ত এই খালটি খনন করা হয়। পলিশা গ্রামের মান্নান মাস্টার স্মৃতিচারণ করে বলেন, শৈশবে দেখেছি এই খালে স্বচ্ছ পানি ছিল। বোয়াল, শোল, বাইমসহ দেশী মাছে পরিপূর্ণ ছিল গবাখাল। সরকার আমাদের বাপ-দাদার জমির বিনিময়ে টাকা দিয়ে এটি আরআর রেকর্ডভুক্ত করেছিল। অথচ আজ এটি ময়লার স্তূপ।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই দশক আগেও খালের পানিপ্রবাহ ছিল বাধাহীন। ১৯৮৮ ও ৯৮-এর ভয়াবহ বন্যার সময়ও এই খালের কল্যাণে শহরের রাস্তাঘাটে পানি জমেনি। অথচ এখন সামান্য বৃষ্টি হলে শহরবাসীকে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে নাকাল হতে হয়।

কালের বিবর্তনে স্বার্থান্বেষী মানুষের লোভে পড়ে গবাখাল এখন বিলীনের পথে। খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি ও শৌচাগার। গৃহস্থালি বর্জ্য, পলিথিন ও প্লাস্টিকের স্তূপে খালের বুক ভরাট হয়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পুলিশ লাইনস সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে একটি কাগজ কলের রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি মিশছে খালের পানিতে। এই বিষাক্ত পানি এখন ঝিনাই নদীতে গিয়ে পড়ছে, যার ফলে নদীও মাছশূন্য হয়ে পড়ছে।

পুলিশ লাইনস সংলগ্ন নার্সারি ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন (৭৬) আক্ষেপ করে বলেন, ‘এত্ত বড় খাল খুঁদার খবর শুনে আমরা তামশা দেখতে যেতাম। এই খালে কত মাছ ধরতাম। এখন মাছ তো দূরের কথা, বিষাক্ত গন্ধে কাছেই যাওয়া যায় না।’

জামালপুর পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘গবাখাল উদ্ধার ও পুনঃখনন করা এখন সময়ের দাবি। এটি দখলমুক্ত হলে শহরবাসী দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে।’ বর্তমান সরকার নদ-নদী ও খাল উদ্ধারে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে গবাখালও প্রাণ ফিরে পাবে; এমনই প্রত্যাশা শহরবাসীর।