বর্তমান প্রজন্মের অভিনয় সংগ্রাম অনেক বেশি আজিজুল হাকিম
Printed Edition
বিনোদন প্রতিবেদক
নব্বই দশকের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আজিজুল হাকিম এখনো অভিনয়ে সমানতালে সক্রিয়। সদ্য সমাপ্ত ঈদুল ফিতরের ব্যস্ততা কাটিয়ে এখন তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন ছোট পর্দার নতুন কিছু কাজ নিয়ে। এবারের ঈদে বড় পর্দায় তার উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে আলোচিত। নির্মাতা রায়হান রাফীর বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। গত ২১ তারিখে ঈদ উদযাপনের সাথে সাথে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় রাফীর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে আজিজুল হাকিম বেশ উচ্ছ্বসিত।
তিনি জানান, রাফীর গল্প বলার ভিন্নধর্মী ঢং এবং চরিত্র নির্বাচনের মুন্সিয়ানা তাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে চিত্রনাট্য পড়ার পর থেকেই চরিত্রটি নিয়ে তিনি দারুণ আশাবাদী ছিলেন এবং প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও তাকে আনন্দিত করেছে।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সংগ্রামের কথা। আজিজুল হাকিম মনে করেন, নব্বই দশকের তুলনায় বর্তমান সময়ের অভিনয়শিল্পীদের লড়াই অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তাদের সময়ে প্রচার মাধ্যম হিসেবে শুধু বাংলাদেশ টেলিভিশন ছিল এবং নিজেকে তৈরির প্রধান জায়গা ছিল মঞ্চ। কিন্তু বর্তমান ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের বদৌলতে সারা বিশ্বের কাজ এখন হাতের মুঠোয়। ফলে এখনকার তরুণদের কেবল দেশীয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানের কাজের সাথে প্রতিযোগিতা করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হচ্ছে। যদিও এখন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ বেড়েছে, তবুও বিশ্ববাজারের সাথে তালমিলিয়ে টিকে থাকাটা এক বড় সংগ্রাম বলে তিনি মনে করেন। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত শান্ত ও মার্জিত হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতা নিজের স্বভাব নিয়ে জানান, অস্থিরতা বা বিদ্রোহ কখনোই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অংশ ছিল না। তিনি মনে করেন, অস্থিরতা মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাই যেকোনো পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়াই তার জীবনদর্শন। পর্দার বাইরে তিনি ঠিক তেমনি, যেমনটি দর্শক তাকে চেনেন। তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি সবসময়ই নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করেন এবং ভিন্নধর্মী ইমেজে দর্শকের সামনে হাজির হতে পছন্দ করেন। এবারের ঈদে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাওয়া ‘মিউ’ কাজটির মাধ্যমেও তিনি ভিন্নভাবে দর্শকদের সামনে এসেছেন। বর্তমান সময়ের নাটক ও ওটিটি কনটেন্টের ভিউ বা জনপ্রিয়তা নিয়ে চলা বিতর্ক প্রসঙ্গেও তিনি নিজের সুচিন্তিত মতামত দেন। আজিজুল হাকিম বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে গল্পের ধরনেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। নব্বই দশকের পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের জায়গা এখন নিয়েছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা বিষয়ভিত্তিক গল্প। অনেক কনটেন্ট তৈরি হওয়ায় দর্শক এখন নিজের পছন্দমতো নাটক দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।