নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

শিক্ষা মন্ত্রী ড.আ ন ম এহছানুল হক মিলন আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে নকল মুক্ত ও ভয়ভীতিহীনভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রত্যেক কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি স্থাপন, কেন্দ্রের প্রবেশমুখে নকল চেকআপের জন্য বুথ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন,পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা (আইপিএস) রাখারও নির্দেশনা দেন, যাতে পরীক্ষার কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে মনিটরিং করা যায়।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবগণের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই নির্দেশনা দেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো: নুরুল হক ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড.এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো: পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতি প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী মন্ত্রীর নির্দেশনা ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সূচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্র সচিবদের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কঠোর তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই নকল বা অবৈধ উপকরণ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। কেন্দ্রসচিবদের এই বিষয়ে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে। তিনি উল্লেখ করেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নায্যতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে, আংশিক উত্তরের জন্য আংশিক নম্বর প্রদান করতে হবে, অযাচিতভাবে নম্বর বাড়ানো বা কমানো যাবে না। এক্ষেত্রে খাতা মূল্যায়নে র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি চালুর কথাও জানান। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ আরো শক্তিশালী করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।

মন্ত্রী আরো বলেন, ভবিষ্যতে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত হয়। এ ছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়নে ইন-হাউজ কোচিং চালুর ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের বাইরের কোচিং নির্ভরতা কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ের এক উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা বিভিন্ন সমস্যা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগসহ শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনার কথা জানান।