রাজবাড়ীতে ভ্যাকসিন সঙ্কটে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

Printed Edition

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা

রাজবাড়ী জেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। কুকুরের কামড়ে প্রতিদিন মানুষ ও গৃহপালিত পশু আক্রান্ত হলেও সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না থাকায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসা ব্যয়।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌর এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এবং প্রায় ৫০০ গৃহপালিত পশু কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশই শিশু। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে ভয় পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। রাতে চলাচলও হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।

ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে কুকুরের কামড়ের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন না থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে। অনেক দরিদ্র পরিবার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে ঝুঁকির মধ্যে দিন পার করছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা লাভলী বেগম বলেন, কুকুরে কামড়ানো ছাগলের চিকিৎসার জন্য ইনজেকশন কিনতে বলা হয়েছে; কিন্তু টাকার অভাবে পারছি না।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিদিন কয়েকটি করে আক্রান্ত পশু হাসপাতালে আনা হলেও বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কুকুর নিধনে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। তবে বন্ধ্যাত্বকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ ও হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে।